তীব্র তাপে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৫৭

বৈশাখের শুরু থেকেই কখনো মৃদু আবার কখনও মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে। চলতি মৌসুমে সব রেকর্ড ভেঙে এ জেলার তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপপ্রবাহ বইছে তীব্র আকারের। টানা তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী জেলার মানুষ। অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে প্রাণিরা।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে এবং বেলা ১২ টায় ৩৮ দশমিক৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ২২ শতাংশ । বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সূর্যেও তাপ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৩৬ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ওপরের তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।

এদিকে তাপমাত্রার তীব্রতা বাড়ায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। অতিরিক্ত গরমে গা ঘেমে শরীরে বসে যাওয়ায় জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, হিটস্ট্রোকসহ রোগবালাই বেড়ে চলেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

তীব্র প্রখরতায় উত্তাপ ছড়ায় চারপাশে। নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বাইরে নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক ও ভ্যান-রিকশা চালকদের গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে। হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে তাদের। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বেরিয়েও কাজ করতে পারছেন না। ছন্দপতন ঘটছে দৈনন্দিন কাজকর্মে।

জেলা শহরের হাসান চত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কালাম ও ডালিম বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ অতিষ্ঠ। দোকানে আসছে না ক্রেতারা। ঠিক মতো বেচাকেনাও হচ্ছে না। তার ওপর প্রচণ্ড সূর্যের উত্তাপে ফুটপাথে বসে থাকাও যাচ্ছে না। বৈশাখের শুরু থেকেই যে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করাই দায়। একদিন কেনাবেচা না করতে পারলে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ইজিবাইকচালক টগর বলেন, গরমে শহরে মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। তাই ভাড়াও ঠিক মতো হচ্ছে না। রাস্তা দিয়ে আগুনের আঁচ উঠছে।

সদর হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট আবুল হোসেন বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগীর চাপ বেড়ে চলেছে। হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে অন্তত দুবার গোসল করা, খাবার স্যালাইন, সাধারণ পানিসহ তরল খাবার বেশি বেশি খাওয়া, চা-কফি-কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা, ঘরের ভেতর বা ছায়াশীতল পরিবেশে অবস্থান করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ছাতা মাথায় বের হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন জানান, চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২ টায় এ জেলার সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমান ছিল ৩১ শতাংশ। এরপর তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টায় এ জেলার সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমান ছিলো ২২ শতাংশ। এটিই দেশে এই মৌসুমেরও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

তিনি আরও জানান, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘদিন এ জেলায় বৃষ্টিপাত না থাকার কারণে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এধারা আরও কিছুদিন অব্যহত থাকতে পারে। 

ইত্তেফাক/পিও