চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর তিনটায় জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ইজিবাইক রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির নেতা ও পুলিশ প্রশাসন।
এর আগে, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর ইজিবাইক চালকদের হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস-মিনিবাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট চলছিল। পরে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আগামী আট দিনের মধ্যে জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ইজিবাইকগুলো আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত রং সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রং না করা হলে রোববার থেকে কঠোরভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় চলাচলকারী ইজিবাইকে কমলা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পৌরসভা এলাকার বাইরে চলাচলকারী ইজিবাইকে নীল, আলমডাঙ্গা উপজেলায় সবুজ, দামুড়হুদা উপজেলায় খয়েরি এবং জীবননগর উপজেলায় চলাচলকারী ইজিবাইকে হলুদ রং করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল বলেন, ইজিবাইকের রং ও মারধরের ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আলোচনার পর প্রশাসনের কাছে আশ্বাস পেয়েছি সমস্যা সমাধানের। তাই শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইজিবাইকের চলাচল ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রতিবাদ করায় গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় একটি বাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসের চালক ও হেলপারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক দেন।

চুয়াডাঙ্গায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ