মৌসুমের শুরুতে আগাম শীতকালীন সবজি বিক্রি করে চাষিরা কিছুটা লাভের মুখ দেখলেও এখন উত্পাদন খরচই উঠছে না। সবজি মোকামগুলোতে প্রথম দিকে যে মুলা এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে সেই মুলা এখন ২শ’ থেকে ২৫০ টাকায় নেমে এসেছে। ১ হাজার ৫০০ টাকা মণের ফুলকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪শ’ টাকায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা। চলতি আমন মৌসুমে ধান বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষককে। সবজি, ধান দুটি ফসলেই পরপর লোকসান হওয়ায় চাষিরা হতাশ। তবে মোকামগুলোতে সবজি দাম না পেলেও রাজধানীতে ঠিকই কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবজি চাষির কোনো লাভ হচ্ছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে বগুড়ায় সবজির সবচেয়ে বড় হাট মহাস্থানে গিয়ে দেখা যায়, সবজির ব্যাপক সরবরাহ। কিন্তু দাম নেই। চাষিরা সবজি নিয়ে বসে আছে। অথচ দু’সপ্তাহ আগেও এসব শীতকালীন সবজির ভালো দাম পেয়েছে চাষিরা। হাটে আসা চাষিরা জানান, শীতের শুরুতে সবজির দাম ভালো ছিলো। এরপর ধীরে ধীরে সবজির দাম কমছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ৭ থেকে ৮ টাকা, বাঁধা কপি ৬ থেকে ৭ টাকা ও পেঁপে ৫ থেকে ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা গ্রামের চাষি আবুল হোসেন, রায়নগরের মহব্বত শেখ জানান, মহাস্থান হাটেই তারা সব সময় সবজি বিক্রি করতে আসেন। দুটো পয়সা বেশি পাওয়ার জন্য আগাম শীতের সবজি চাষ করেন। এ বছরও করেছেন। প্রথম দিকে ভালো দামও পেয়েছেন। কিন্তু অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আগেই শীতের সবজির দরপতন ঘটেছে। মেহেরপুর প্রতিনিধি মাহাবুব চান্দু জানান, জেলার পুরো মাঠ জুড়ে নানা ধরনের সবজির চাষ হলেও চাষের খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে শীতকালীন সবজি উত্পাদন করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। সম্প্রতি জেলার বড়বাজারে সবজির পাইকারি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি সিম ১২ টাকা, করলা ১০ থেকে ১২ টাকা, পটল ৭ থেকে ৮ টাকা, গাজর ২০ টাকা, বরবটি ১৬ থেকে ২০ টাকা, পেঁপে ৪ থকে ৫ টাকা ও কাচা মরিচ ৮ থেকে ১২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাঁধাকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকায়।
আড়তের খেয়া সবজি ভাণ্ডারের মালিক আবুল খায়ের জানান, প্রতিদিন মেহেরপুর থেকে গড়ে ৭ থেকে ৮ ট্রাক সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও চাষিরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সদর উপজেলা শালিকা গ্রামের বাঁধাকপি চাষি মহর আলী জানান, এক বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেছি। কিন্তু ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি দাম উঠছে না। ফলে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে ক্ষতি হলে কৃষকরা সবজি চাষে আগ্রহ হারাবে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে প্রথম দিকে কৃষকরা ভালো দাম পেলেও এখন পাচ্ছেন না।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা মো. আমিরুজ্জামান জানান, সৈয়দপুরে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮/৯ টাকায়। ফলে মরিচ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। এমনকি বাজারে বিক্রির জন্য মরিচ এনে ভ্যান ভাড়াও উঠছে না। এছাড়া পাতাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ টাকা ধরায় (এক ধরা ৫ কেজি)।
পাইকারি বাজারের ক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, যে হারে বাজারে মরিচ আসছে, সে হিসাবে ক্রেতা নেই। চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা মরিচ কিনে মাত্র ৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর খুচরা দোকানীরা সেই মরিচ ১০/১৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। তিনি জানান, এবছর উপজেলার সর্বত্র কপি ও কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কমছে চালের দাম:এদিকে বাজারে আমন মৌসুমের নতুন চাল উঠতে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে চালের দর কমছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরনো চালের মজুদ ছেড়ে দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি নতুন চাল উঠানো হচ্ছে। এতে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
