যশোরে আটক পুলিশের আইজিপির প্রটোকল অফিসার এএসপি পরিচয়দানকারী প্রতারক রাকেশের হাত থেকে রক্ষা পাননি তার জন্মদাতা পিতা এবং পরিবারও। রাকেশ দোষী হলে এর বিচার চান তার বাবা। সেই সঙ্গে তাকে যারা এই পথে নিয়ে এসেছে, তাদেরও বিচার দাবি করেন তিনি।
আটক প্রতারক রাকেশের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বহিলাপুতা গ্রামে। শুক্রবার সকালে রাকেশ ঘোষের বাড়িতে গেলে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সবার মাঝে বসে আছেন দরিদ্র কৃষক বাবা সন্তোষ ঘোষ। সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ধার-দিনা করে অনেক টাকা খরচা করে যশোরের ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এমএ পর্যন্ত পড়িয়েছি। ছাত্র থাকাকালীন ছোটো বোনের নামে জমিয়ে রাখা ডিপিএসের টাকাও হাতিয়ে নেয় রাকেশ। সে সময় থেকে ছেলের উপর বিশ্বাস হারিয়েছি।’
সন্তোস ঘোষ আরো বলেন, ‘রাকেশ বাড়িতে বলে পুলিশের চাকরির জন্য টাকার প্রয়োজন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করি। চাকরির টাকা নিতে সুপারিশের জন্য শহিদ নামের এক এসআইকে (ভুয়া) সঙ্গে নিয়ে বাড়ি আসে। এদিকে গত জানুয়ারি মাসের কোনো এক সন্ধ্যায় কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে আসে। তারা বলে, আপনার ছেলে পুলিশের অনেক বড় চাকরি পেয়েছে। আমরা তদন্তে এসেছি। তারা কয়েকটা কথা জিজ্ঞাসা করেই চলে যায়। পুলিশি তদন্তের কথা ভেবে আমি দেড় বিঘা জমি বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ছেলের হাতে দিয়েছি। এমনকি ছেলে রাজশাহী ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সময় চূড়ামনকাটি গিয়ে গাড়িতেও উঠিয়ে দিয়ে এসেছি। এখন শুনছি ছেলে ভুয়া পুলিশ।’
এদিকে রাকেশের কাকা সুবোধ ঘোষ, জয়দেব ঘোষ, খালাতো ভাই সৈলন ঘোষ বলেন, ‘সম্প্রতি রাকেশের হ্যালোতে এলাকার কয়েকজনের উপকারও হয়েছে। আমরা কী করে বুঝব সে ভুয়া?’
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব বলেন, ‘চৌগাছা থানার পুলিশ রাকেশের চাকরির তদন্ত করেছে কি না, আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, মনে হচ্ছে বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নাটক করেছে সে।
উল্লেখ্য, রাকেশ কয়েক দিন আগে এক নারীকে যশোরের কোতোয়ালি থানায় পাঠান। ওই নারীর অন্যায় আবদার না রাখায় রাতে এএসপি পরিচয় দিয়ে রাকেশ একই থানায় কর্মরত এসআই সাহিদুল আলমের চাকরি ‘খেয়ে’ নেওয়ার হুমকি দেন। এবং এসআই সাহিদুল আলমকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দড়াটানা মোড়ে দেখা করতে বলেন। সেখানে রাকেশ নিজেকে পুলিশের আইজিপির প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। ইতিপূর্বে নড়াইলের এএসপি পরিচয়, পরে আইজিপির প্রটোকল অফিসার পরিচয় দেওয়ায় সন্দেহ হয়। এ সময় এসআই সাহিদুল আলম ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থানায় নিয়ে আসেন। থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশ সদস্য নন বলে স্বীকার করলে তাকে আটক করা হয়।
