সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

গাধার দুধ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা লিটার

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:০৭

গাধা নামক প্রাণীটি কঠোর পরিশ্রমের রূপক হিসেবে প্রচলিত আমাদের সমাজে। পাশাপাশি বোকামি বোঝাতেও এই প্রাণীটির উদাহরণ দেওয়া হয়। কিন্তু এই গাধা দিয়েই ভাগ্য ফিরিয়েছেন ভারতের গুজরাটের এক যুবক। গাধার খামার থেকে মাসে আয় করছেন আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। গরুর দুধের থেকে ৭০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন গাধার দুধ।

গুজরাটের পাটান জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন সোলাংকি। গ্রামেই ৪২টি গাধা নিয়ে একটি গড়ে তুলেছেন একটি খামার। দক্ষিণ রাজ্যের গ্রাহকদের গাধার দুধ সরবরাহ করে মাসে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

সোলাংকি বলেন, সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিছু প্রাইভেট চাকরিতে সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। তবে যা বেতন পেতেন তা দিয়ে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। এসময় তিনি দক্ষিণ ভারতে গাধা পালনের বিষয়ে জানতে পারেন। এ বিষয়ে কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে প্রায় ৮ মাস আগে গড়ে তুলেন আজকের গাধার খামারটি।

প্রথমে ২০টি গাধা ও ২২ লাখ টাকা বিনিয়োগ দিয়ে শুরু করেন যাত্রা।

শুরুটা কঠিন ছিল। গুজরাটে গাধার দুধের চাহিদা তেমন নেই। প্রথম পাঁচ মাসে তার তেমন উপার্জন হয়নি। এরপর তিনি দক্ষিণ ভারতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। সেখানে গাধার দুধের চাহিদা রয়েছে।

তিনি এখন কর্ণাটক ও কেরালায় দুধ সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। তার ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে কসমেটিক কোম্পানি যারা তাদের পণ্যে গাধার দুধ ব্যবহার করে।

বিক্রিয়মূল্য সম্পর্কে সোলাংকি বলেন, লিটার প্রতি সাড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কিন্তু গরুর দুধের দাম প্রায় ৯০ টাকা লিটার। দুধের মান ধরে রাখতে তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। দুধ শুকিয়ে গুঁড়ো করেও বিক্রি করা হয়, যার দাম কেজিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়।

সোলাংকির খামারে এখন ৪২টি গাধা রয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

গাধার দুধের উপকারিতা

প্রাচীনকালে গাধার দুধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত। জানা যায় মিসরীয় রানী ক্লিওপেট্রা গাধার দুধে গোসল করতেন। মেডিসিনের জনক ও গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যকৃতের সমস্যা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বিষক্রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জ্বরের জন্য গাধার দুধের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

এর অনেক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক যুগে গাধার দুধের ব্যবহার অনেক হ্রাস পেয়েছে।  যদিও এখনো গাধার দুধ খুব বেশি পাওয়া যায় না তাই এর দামও বেশি।

ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গরুর দুধের তুলনায় মানুষের দুধের সঙ্গে গাধার দুধের গঠনের বেশি মিল এবং এটি শিশুদের জন্য ভালো বিকল্প বিশেষ করে যাদের গরুর দুধে অ্যালার্জি আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে গাধার দুধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্ত্রের মাইক্রোফ্লোরা নিয়ন্ত্রিত করার ক্ষমতা।

এমন গবেষণাও রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এর ক্ষেত্রে উপকারি। গাধার দুধের শেলফ লাইফও বেশি বলে জানা যায় কারণ অন্যান্য দুধে যেসব রোগজীবাণু পাওয়া যায় গাধার দুধে এমন কিছু থাকে না।

ইত্তেফাক/এসএটি