ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই মালদ্বীপে পার্লামেন্ট নির্বাচন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৫২

মালদ্বীপে শেষ হয়েছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দ্বীপরাষ্ট্রটি নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একইসঙ্গে এই নির্বাচন দেশটির চীনপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন মুইজ্জু। দেশটি থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি।

রোববারের নির্বাচনটি ভারত ও চীন গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। কারণ উভয় দেশ মালদ্বীপে প্রভাব বিস্তারের জন্য লড়াই করছে।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মালদ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে দুই দেশের কাছেই। কারণ বৈশ্বিক পূর্ব-পশ্চিম শিপিং লেনগুলো মালদ্বীপ হয়েই যায়। দেশটি পুরতান সৈকত ও বিলাসবহুল রিসর্টের জন্যও পর্যটকদের নিকট সুপরিচিত।

রোববারের ভোটে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ভোটার ছিলেন।

ছয়টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র দল থেকে সংসদের ৯৩টি আসনে ৩৬৮ জন প্রার্থী ছিল। মুইজ্জুর পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ  (এমডিপি) সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের কারো একার পক্ষে সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আলী নাসের মোহাম্মদ আল জাজিরাকে বলেছেন, সরকার পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে গভীরভাবে আত্মবিশ্বাসী।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটি রাষ্ট্রপতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের ওপর ভারত মহাসাগরে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে কম এবং মালদ্বীপ ও জনগণের ভবিষ্যতের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। এর ওপর নির্ভর করছে মালদ্বীপের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপকতা।’

পার্থের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতির একজন লেকচারার এবং রিসার্চ ফেলো আজিম জহির বলেছেন, ‘শাসক জোটসহ উচ্চ মাত্রার উপদলীয়করণের কারণে এটি ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন।’

২০১৩ সালে মালদ্বীপ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ইনিশিয়েটিভে যোগ দেয়। মালদ্বীপে প্রায় ১ হাজর ২০০টি প্রবাল দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার।

ইত্তেফাক/এসএটি