সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

‘আমিও বুঝতে পারিনি এশিয়ার সেরা ফুটবলার হয়েছিলাম’

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:১৯

বাংলাদেশের ফুটবলে একজন কিংবদন্তি তিনি। নাম তার আলফাজ আহমেদ। ১৯৯৬ এশিয়ার মাসসেরা ফুটবলার হয়েছিলেন মোহামেডানের আলফাজ। আলফাজের পর আর কোনো ফুটবলার এই গৌরব অর্জন করতে পারেননি। চাট্টেখানি কথা নয়, বাংলাদেশের একজন ফুটবলার এশিয়ার ৪৭ দেশের ফুটবলারের মধ্যে এক মাসের জন্য সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন এবং এএফসির কর্মকর্তারা গুলশানে একটি শো রুমে আলফাজকে ট্রফি তুলে দিয়েছিল। 

আলফাজ বলছিলেন, ‘এই পুরস্কার যখন ঘোষণা করা হয়, তখন অনেকই বুঝতে পারেনি এটার গভীরতা। বাংলাদেশের মানুষও বুঝতে পারেনি এর গুরুত্ব কতটা। এখন যেমন উপলব্ধি করছে সবাই, তখন কিন্তু এটা ছিল না। অনেক সংবাদমাধ্যমও এটা হয়তো বুঝতে পারেনি, যে কারণে সেভাবে এর প্রচারটাও হয়নি। অন্যদের কথা কী বলব, আমিও তো বুঝতে পারিনি এটা কত বড় সম্মান। জাপান-কোরিয়ার মতো সেরা দেশগুলোর ফুটবলারদের ছাপিয়ে বাংলাদেশ থেকে আমি আলফাজ মাসসেরা খেলোয়াড় হব।’ 

আলফাজ বলেন, ‘আমাদের সবার চোখ দক্ষিণ এশিয়ায়, আর এটা ছিল পুরো এশিয়া জুড়ে বাছাই করে একজনকে মাসের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়েছিল।’ আলফাজ বললেন, ‘আমি সেবার এশিয়ান ক্লাব কাপ ফুটবলে লাওস ইলেক্ট্রিক সিটি ক্লাবের বিপক্ষে হ্যাটট্টিক করেছিলাম।

আলফাজ মিয়ানমারে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯৯ সালে সাফ গেমস ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ওটাই ছিল শেষ সাফ গেমস। পরে এটি হয় এস এ গেমস। সেবার যদি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন না হতো, তাহলে সোনার হরিণ নামের সাফ গেমস ফুটবলের স্বর্ণপদক সোনার হরিণই থেকে যেত। বাদল রায়, কায়সার হামিদ, মোনেম মুন্না, আসলাম, সাব্বিররা সাফ গেমস ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম জুয়েল রানা, মিন্টু, হাসান আল মামুন, আরিফ খান জয়, মতিউর মুন্না, আলফাজরা স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন। নেপালে হওয়া ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন আলফাজ। 

বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টারবয় বললেন, ‘ঐ ট্রফি যদি না পেতাম তাহলে সারা জীবন বাংলাদেশের আফসোস থেকে যেত।’ ২০০৩ সালে ঢাকায় হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি পাওয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ছিলেন আলফাজ। টানা তিনটা ট্রফির অংশীদার আলফাজ আহমেদ। ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনে ছিলেন সেরা, ক্রীড়া সাংবাদিকদের পুরস্কার পেয়েছিলেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি আলফাজকে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার তুলে দেয়। আলফাজ মোহামেডানকে ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপের ট্রফি এনে দিয়েছেন। সেই স্বীকৃতি পেলেন আলফাজ।  

নাজিয়া আহমেদ আলফাজের স্ত্রী। কাল পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন দুই জন। মিরপুরে ১১ নম্বরে আলফাজ এবং নাজিয়ার বাসা। ৯১ তে প্রেম, ৯৫ তে বিয়ে। বড় ছেলে রেজওয়ান আহমেদ, মেয়ে রওনক আরা, ছোট ছেলে রাফিয়ান আহমেদ, এই নিয়ে সুখের ঘর আলফাজের।  

ইত্তেফাক/জেডএইচ