মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভারত বিরোধিতার নামে দেশবিরোধী প্রচারণায় তারা  

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ২২:৫২

আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বিঘ্নিত করতে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের জনাকতক ব্যক্তি সেই ষড়যন্ত্রে সামিল হয়েছেন। এরা আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। বাংলাদেশের জনমানসে তারা স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী এবং উন্নয়নবিরোধী শক্তি হিসেবেই পরিচিত। 

অভিযোগ রয়েছে, চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে তাদের কারও কারও। এখন সামাজিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণাই তাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তারা। মৌলবাদীদের উসকানি দিয়ে তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জনগণ তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপযুক্ত শিক্ষা দিলেও তার থেকে শিক্ষা নেয়নি তারা। তাই এখনও চলছে তাদের বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার।  

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের বহু আগে থেকেই সামাজিক গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামার অভিযোগ রয়েছে  পিনাকী ভট্টাচার্য, মাহমুদুর রহমান, নুরুল কবির, গোলাম সারওয়ার, রওশন হক, জুলকারনাইন সায়ের, ইলিয়াস হোসেন ও কনক সারোয়ারের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে গিয়ে বারবার তারা ভারতের বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালান। 

কিন্তু তাদের অপপ্রচারে কান না দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে ফের আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের হয়ে পাকিস্তানপন্থীদের প্রচারণা কোনও কাজে লাগেনি। মানুষ নির্ভয়ে উন্নয়ণের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা অবরোধের ডাক দিলেও সাড়া মেলেনি। এমনকী, মানুষ তাদের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিকেও প্রত্যাখান করেছে। এতে হতাশ হয়ে অপপ্রচারের মাত্রা আরও তীব্র করেছেন পিনাকী ভট্টাচার্যেরা। 

উসকানিমূলক প্রচারের জন্য পিনাকীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিলেও তার আসল কাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের আবেগে আঘাত করা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। 

২০১৯ সালে গ্রেপ্তারি এড়াতে ব্যাংকক হয়ে ফ্রান্সে পৌঁছান তিনি। সেখানে আশ্রয় নিয়ে নিয়মিত অপ্রচার চালাচ্ছেন পিনাকী। বিএনপি ছাড়াও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা থেকেও তার অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা মিলছে বলে অভিযোগ। অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্খী পিনাকী দেশবিরোধী প্রচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরোধীদের খুশি করে চলেছেন। সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মৌলবাদীদেরও উৎসাহিত করছেন তিনি।

বিএনপি ও জামায়াতের আরেক দোসর হিসেবে পরিচিত মাহমুদুর রহমান। ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্যবসায়ী মাহমুদুর ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও। এক সময়ে বামপন্থী রাজনীতি করতেন। তাই চীনের সঙ্গে রয়েছে তার দহরম-মহরম। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বেজিংয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

চীনপন্থী সাবেক বাম নেতা নূরুল কবীরও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণায় আছেন। ‘দ্য নিউ এজ’-এর সম্পাদক নূরুল সবসময়ই পিছনের দরোজা দিয়ে ক্ষমতা বৃত্তে থাকতে চান। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে মিলে অনির্বাচিত সরকারকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখার নীল নকশার রুপকার ছিলেন এই নূরুল কবির। 

বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারের আরেক ব্যক্তি হচ্ছেন জুলকারনাইন সায়ের খান, ওরফে সামিউল আহমেদ খান, ওরফে সামি। নানা সময়ে নানা ভুয়া পরিচয় দিয়ে অর্থ উপার্জনকারী সামি এখন বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারের অন্যতম কারিগর। বিদেশের মাটিতে বসে সমানে চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী প্রচার। 

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রিত ইলিয়াস হোসেনকেও একই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিক ড.কনক সরওয়ারও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। 

তবে এরা সকলেই চূড়ান্ত হতাশ। এরা চেয়েছিলেন, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পর্যবসিত করতে। নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এই মানুষগুলো একবারও দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীভাবে বিপর্যয় ডেকে আনা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন তারা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবার সরকার গঠিত হওয়ার পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাকে স্বাগত জানালেও এরা এখনও নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকী, গোটা দেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য প্ররোচনাও দিতে দেখা গিয়েছে তাদের।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান সর্বজনবিদিত। পাকিস্তানি গণহত্যায় চীন বা যুক্তরাষ্ট্র বাঙালি জাতির বিরুদ্ধাচারণ করলেও ভারতের সরকার ও ভারতের আপামর জনগণ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে। সেই রক্তের বন্ধন আজও অটুট। উভয় দেশই বন্ধুত্বের ভীতকে আরও মজবুত করেছে। মানুষের জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে দুই দেশ একসঙ্গে লড়াই করছে মানবতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে। মানুষের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করাই দুদেশের ঘোষিত লক্ষ্য। কিন্তু মৌলবাদীদের মদদপুষ্ট স্বার্থান্বেষি কিছু দেশবিরোধী শক্তি বিদেশি শক্তির মদদে বাংলাদেশের যাবতীয় উন্নয়নের নির্লজ্ব বিরোধিতায় নেমেছেন। 

ইত্তেফাক/এসআর