চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০০

দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাত ৮টা হতে ১১টা পর্যন্ত চুয়েট প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসেন। এরপর তারা আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে তিনটায় চুয়েটের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মো. রেজাউল করিম সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেবেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো নির্দেশনা আসার আগপর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। এদিন টানা চতুর্থ দিনের মতো শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুটি বাসে আগুন দেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ১৫১তম জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

গত সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে তিনটায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে বাসের ধাক্কায় চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা (২২) ও দ্বিতীয় বর্ষের তৌফিক হোসাইন (২১) নিহত হন। আহত হন জাকারিয়া হিমু (২১)। চুয়েটের কাছাকাছি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জিয়ানগর এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বেপরোয়া গতির শাহ আমানত পরিবহনের একটি যাত্রীবাসী বাস।

দুর্ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাস। পাশাপাশি আরও দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রাত নয়টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীর। পরে সেদিন রাত তিনটায় নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করা হয়। এরপর গত বুধবার প্রায় ১৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবারও সড়ক বন্ধ ছিল।

ইত্তেফাক/এসটিএম