‘শের-ই-বাংলার অসীম মমত্ববোধ, কর্মপ্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’

  • বরিশাল বিভাগ সমিতির আলোচনা সভায় বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৫৭

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেছেন, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক এদেশের কৃষক সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে আজীবন কাজ করেছেন। তার অসীম মমত্ববোধ, কর্মপ্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। শনিবার বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র উদ্যোগে শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের ৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক তথ্য সচিব ও বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাগরুব মোর্শেদ, পিএসসির সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপিকা ড. আনোয়ারা হোসেন, বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সোবহান, সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, আইন সম্পাদক জেলা জজ মো. আব্দুল আউয়াল, সদস্য জিয়াউল হাসান, সদস্য ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক জিএম জাকির হোসেন খাঁন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন আকন্দ, সহ-সভাপতি শরীফ সারোয়ার আশা, জাসদের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, সমিতির সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদ মুরাদ প্রমুখ।

বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯১৬-১৯২১), কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ও পূর্ব বাংলার গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) পদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

সাবেক তথ্য সচিব ও বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান  সৈয়দ মাগরুব মোর্শেদ বলেন, কৃষকদের অধিকার আদায়ে এ কে ফজলুল হক সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দরিদ্র কৃষক এবং প্রজাদের স্বার্থরক্ষায় কৃষি ঋণ আইন এবং প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন।

পিএসসির সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপিকা ড. আনোয়ারা হোসেন বলেন, জমিদাররা রায়তদের ওপর যে আবওয়াব ও সেলামি ধার্য করতেন, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক তা বিলোপ সাধন করেন। তার সাহসী নেতৃত্ব, উদার ও পরোপকারী স্বভাবের জন্য জনগণ তাঁকে ‘শেরে বাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন।

বক্তব্য রাখছেন বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু।

বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সোবহান বলেন, বাংলার বাঘ নামে পরিচিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন গণমানুষের নেতা।

বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, কৃষক-শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। অসাধারণ মেধাবী ও বাগ্মী ফজলুল হক একাধারে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় বক্তৃতা করতে পারতেন। দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর অধিককাল তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা’র আইন সম্পাদক জেলা জজ মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক বঙ্গীয় চাকুরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন, দোকান কর্মচারী আইন প্রণয়ন করেন, যা এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।

ইত্তেফাক/এএএম