দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই: বিচারপতি ফয়সাল

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ২২:১২

দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেছেন, দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। মানবসভ্যতা বিকাশে এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে দুর্নীতি প্রধান অন্তরায়। যেসব দেশে সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে, সেখানে দুর্নীতি রয়েছে। দুর্নীতি এমন এক অপরাধ যা অন্যান্য অপরাধ দমনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অধিকাংশ অপরাধের অন্যতম উৎস হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতগ্রস্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল দুর্নীতিকে সহনশীল মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। 

শনিবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে ডিএনএসএস অডিটরিয়ামে দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য বড় পরিসরে ‘দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থা’র কর্পোরেট অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

সভাপতির বক্তব্যে দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন) লায়ন এইচ. এম. ইব্রাহিম ভূঁইয়া বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও এনজিও এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়, যেমন: ঘুষ, অনুপ্রবেশ, অর্থ পাচার, নেপোটিজম এবং অবৈধ লেনদেন। দুর্নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতির নৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দুর্নীতি কেবল গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে না; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে।

দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার পরিচালক (আইন) অ্যাডভোকেট মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করে আসছে। দুর্নীতি এমন একটি ব্যাধি যা সমাজের মূল কাঠামোকে ক্ষয় করে, অর্থনীতির উন্নয়নে বাধা দেয় এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। তবে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখাচ্ছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। দুর্নীতির কারণে আর্থ সামাজিক ক্ষতি হয়। জাতীয় আয়ের ওপর প্রভাব পড়ে, সামাজিক ক্ষতি হয়। দুর্নীতির কারণে মানুষকে জীবনও দিতে হয়-সেই উদাহরণও আছে।

দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার পরিচালক (আসাবন) মো. আবু ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সক্রিয়তা। দুদক বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের কাজ করে থাকে।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার এবং প্রচারণা চালাচ্ছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই জরুরি। এই কঠিন লক্ষ্য সফল করার জন্য মানুষের জীবনের একেবারে গোড়া থেকে, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

ইত্তেফাক/পিও