রাশিয়ার বিরোধিদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনির রহস্যজনক মৃত্যুর নেপথ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রায় ২ মাসের তদন্ত শেষে শনিবার (২৭ এপ্রিল) গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, নাভালনিকে হত্যার সরাসরি নির্দেশ দেননি পুতিন। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি দেখেছি। এটি আমাদের কাছে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন মনে হয়নি, যেটা বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।’
তবে, এই মার্কিন অনুসন্ধানকে নির্বোধ এবং হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন নাভালনির সিনিয়র সহযোগী লিওনিড ভলকভ।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক কর্মকর্তা শনিবার (২৭ এপ্রিল) জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পুতিন সম্ভবত নাভালনিকে হত্যার নির্দেশ দেননি। তবে, নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিনকে সামগ্রিক দায় থেকে অব্যাহতি দেয়নি সংস্থাটি।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, অনুসন্ধানটি মার্কিন গোয়েন্দাদের দ্বারা ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয় এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা প্রতিবেদনটি শেয়ার করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তার কয়েকটি সূত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নটি কিছু শ্রেণীবদ্ধ গোয়েন্দা তথ্য, নাভালনির মৃত্যুর সময়, মার্চ মাসে পুতিনের পুর্নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জনসাধারণের তথ্যের বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওই হত্যাকাণ্ডে মস্কোর জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। গত মাসে নাভালনির মৃত্যুকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছিলেন পুতিন। নাভালনি যদি আর রাশিয়ায় থাকতে না চান তাহলে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে কারাবন্দি নাভালনিকে পশ্চিমের হাতে তুলে দিতেও প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরা বছরের পর বছর ধরে পুতিন প্রশাসনের দমনের শিকার হচ্ছেন। এর আগে নাভালনিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ২০২০ সালে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে ক্রেমলিন ২০২০ সালের বিষ প্রয়োগ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, ৪৭ বছর বয়সি নাভালনি ছিলেন পুতিনের কঠোর সমালোচক। তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করার জন্য পুতিনকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তারা তাদের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ দেবে।
