প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট মজবুত। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে করার সক্ষমতা অর্জন করেছি। উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী ইলেকশনে কী হবে তা বলতে পারি না। তবে আমরা যে একটা সিস্টেম করে রেখেছি, এরপর যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।’
গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’ প্রদান করা হয়।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাদের কর্মতত্পরতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে আমাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে। যে বিশাল সুযোগ আমাদের সৃষ্টি হবে রপ্তানি বাণিজ্য করার, সেই সুযোগটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে অন্য যে সুযোগগুলো আমরা পাই সেগুলো হয়তো পাব না, তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। কারণ, সেভাবেই আমরা আমাদের নীতিমালাসহ সবকিছু প্রণয়ন করেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
দল মত নির্বিশেষে তার দরজা ব্যবসায়ীদের জন্য সবসময় খোলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা অনেক সুযোগ করে দিচ্ছি। আর আমার দরজাতো সবসময় খোলাই থাকে, কোনো প্রটোকল নেই, কিছু নেই। কোনো সমস্যা হলে নিশ্চিন্তে আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। বর্তমান সরকার অব্যাহতভাবে রপ্তানিতে উচ্চ-প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক পাঁচ-দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ছয়-সাত বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা বাংলাদেশ যাতে উন্নত হয়- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সরকার ব্যবসাবান্ধব। তবে নিজেরা ব্যবসায়ী নই। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই বলে এসেছি আমার সরকার ব্যবসা করবে না। ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীগণ। আমরা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব।
অনুষ্ঠানে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
