যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগনেতা মনজুর রহমানকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর শহরের আজিমনগর রেলস্টশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মনজুর রহমান উপজেলার বাহাদিপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর গোপালপুর পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহারুল ইসলামকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ১ নম্বর ফটকের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন মনজুর। তিনি গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।
এদিকে মনজুর রহমান মঞ্জু হত্যার ঘটনায় গোপালপুর শহীদ মিনার চত্ত্বরে পুর্বনির্ধারিত মহান মে দিবসের কর্মসূচি বাতিল করেছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন।
মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু মে দিবসের কর্মসূচি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মনজুর লালপুরের গোপলপুর পৌর শহরের আজিমনগর রেলস্টেশন এলাকার একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। রাত তখন সাড়ে ১১টা হবে। এসময় হঠাৎ করে পাঁচ-ছয়জনের একদল লোক মনজুরের মাথা ও পেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবৃদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মনজুর মারা যান। পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা
হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য বুধবার সকালে লাশটি নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই গোপালপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কমিশনার মাসুদ রানা ইত্তেফাককে বলেন, ‘পুর্ব বিরোধের জেরে মঞ্জুরকে গোপালপুর পৌর এলাকার টুমন ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যা করেছে। টুমনসহ ১৫ জনের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
লালপুর থানার ওসি নাসিম আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, পুরনো বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটতে পারে। মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া শৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
