গরমে নাজেহাল অবস্থা সবার। সেখানে ভ্রমণ কেবল বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আবার গরমের অস্বস্তি একঘেয়ে জীবন বেশ অসহ্যকর। তবে খুব দূরে ঘুরতে যাওয়াটাও এখন কোন ভালো সিদ্ধান্তের মধ্যে পরবে না। তাই বলে কি কেউ ঘুরতে যাবে না? ঘুরে আসতে পারেন রিসোর্টে। পরিবার নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা সময় কাটানোর জন্য এই গরমে রিসোর্ট হতে পারে একটি চমৎকার জায়গা।
ঢাকার আশেপাশে ঘোরার মত রিসোর্টের অভাব নেই। যা সাধ্যের মধ্যে সুন্দরও। ঢাকার আশেপাশে একদিন সময় কাটানো যায় এমন সব রিসোর্ট:
ছুটি রিসোর্ট
ছুটি রিসোর্ট গাজীপুরের সুকুন্দি গ্রামে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গার ওপর যত্নে গড়ে তোলা হয়েছে। গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন গ্রামীণ আবহে তৈরি এই অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে নৌ ভ্রমণ এবং সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে তাঁবু টানানোর ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে ছনের তৈরী ঘর, কটেজ, মাছ ধরার ব্যবস্থা, বার্ড হাউস, ভেষজ গার্ডেন, ফল, সবজি ও ফুলের বাগান, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক স্পট, গ্রামীণ পিঠার ব্যবস্থা, দুটি খেলার মাঠ এবং কিডস জোন। ছুটি রিসোর্টের পাখির কলরব, শিয়ালের হাঁক, বাদুড়, জোনাকি আলো ও ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন আপনাকে প্রতি মূহুর্তে গাঁয়ের রাতের কথাই মনে করিয়ে দেবে। আর যদি কোন ভরা পূর্ণিমায় ছুটি রিসোর্টে আসেন তবে নিকষ কালো অন্ধকারে জোছনার পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারবেন। কারণ পূর্ণিমা রাতে ছুটি রিসোর্টে কোন বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানো হয় না। শৈশবের দুরন্ত দিন, পূর্ণিমা এবং বর্ষা উপভোগ করতে চাইলে ছুটি রিসোর্টই হচ্ছে একটি আদর্শ স্থান। ছুটি রিসোর্টে আগত অতিথিদের নানা ধরনের মৌসুমি ফল উপহার দেওয়া হয়, আর সকালে নাস্তার আয়োজনে চালের রুটি, চিতই পিঠা, ডাল ভুনা, সবজি ও মুরগির গোশত পরিবেশন করা হয়।
ফিশিংয়ের ব্যবস্থা অথিতিদের কাছে ছুটি রিসোর্টের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। রিসোর্টের বিশাল ৩ টি লেকে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে যেমন খুশি মাছ শিকার করা যায়। আগত অথিতিদের জন্য রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা। আবাসনের জন্য ছুটি রিসোর্টে গড়ে তোলা হয়েছে ২১ টি এসি, নন-এসি কটেজ। গ্রামীণ এবং শহুরে স্থাপনার আদলের এই রিসোর্টে আরো রয়েছে সুইমিং পুল এবং দুটি কনফারেন্স রুম। ছুটি রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে বাংলা, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, থাই এবং কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যায়।
রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট
গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে শালবনের ভেতরে প্রায় ৮০ বিঘা জমি নিয়ে যৌথ মালিকানায় গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট। বনের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এখানে পরিকল্পিতভাবে আরো বনায়ন করা হয়েছে। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে ২৬ টি কটেজ পার্ক ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে রিসোর্টের লেকে মাছ ধরা, নৌকা ও সাইকেল চালানো কিংবা শাক-সবজি ও ফার্ম ঘুরে দেখতে পারেন। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে আরো রয়েছে একটি সুইমিং পুল, ম্যাসেজ পার্লার ও ক্যাফেটেরিয়া। ঘন অরণ্যের ভেতরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ৪ তলা বিশিষ্ট প্রতিটি ভবনের ছাদে পাখির চোখে বন পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে অবজারভেশন টাওয়ার। তাই শহরের বেশ কাছে ঝুল বারান্দায় বসে বন্য প্রকৃতি আর চোখ জুড়ানো সবুজের স্বাদ নিতে চলে আসতে পারেন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে।
জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্ট
জল ও জঙ্গলের কাব্য বা পাইলট বাড়ি খ্যাত রিসোর্টটি গাজীপুর জেলাস্থ টংগীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিসোর্টিতে প্রকৃতিকে অবিকৃত রেখে বাঁশ আর পাটখড়ি দিয়ে সুনিপুণ ডিজাইনারের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। বিলের উপর অপার্থিব জোছনা দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার কাছে অল্প সময় ও স্বল্প খরচে সারাদিন কাটানোর জন্য জল জঙ্গলের কাব্য একটি চমৎকার স্থান।
অনাবিল সবুজ আর বিলের শান্ত জলে বড়শি হাতে একটি দুপুর আপনার নিভৃতচারী মনের স্বপ্নসাধ পূরণের জন্য যথেষ্ট। এছাড়া ঢাকার বেশ কাছে হওয়ায় দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। বাঁশ, পাটখড়ির বেড়া, ছনের ছাউনি আর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি জন্ম দিয়েছে এক পরিচ্ছন্ন গ্রামীণ ছোঁয়া। জল জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে নিজস্ব জমিতে চাষ করা শাক-সবজি, ধান এবং বিলের মাছ দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হয়। জল জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে বাণিজ্যিক স্বার্থ থেকেও পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দেয়া হয় তাই একদিনের ছুটির অবসরে ঘুরে আসতে পারেন জল জঙ্গলের কাব্য থেকে।
