দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুলপরিমাণ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্যের সঙ্গে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র এখন ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ককে তাদের মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আর এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নারীরা।
নারীদের বর্তমানে মাদক ব্যবসার টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি নারীরা স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে থাকে। ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ায় ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে সহজেই বহন করা যায়। ফলে ইয়াবায় সয়লাব হয়ে পড়েছে গোটা সাভারের অলিগলি।
জানা গেছে, দূরপাল্লার পরিবহন বিশেষ করে নৈশকোচে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পণ্যের সঙ্গে মাদকদ্রব্য ঢুকছে। প্রশাসন বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে যে পরিমাণ মাদক আটক করে তা যত্সামান্য। আটকের কয়েকশ গুণ বেশি মালামাল প্রবেশ করছে রাজধানীতে। পূর্বে ভারতীয় ফেনসিডিলে সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ এলাকা সয়লাব হলেও বর্তমানে ইয়াবার প্রসার বেড়েছে। একটি সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ মালামাল নির্বিঘ্নে ঢুকে পড়ছে। এক শ্রেণির পরিবহন শ্রমিক ও বেকার যুবক পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপঢৌকন কালেকশন করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা জেলা (উত্তর) ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (বিপ্লব) জানান, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের মধ্যে নারীরাও রয়েছেন। নারী হওয়ার কারণে খুব সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা মাদক বহন ও সরবরাহ করে থাকেন। নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সাভারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। নেশার পাশাপাশি তারা মাদক সরবরাহেও নিয়োজিত রয়েছে। অনেক অভিভাবক তার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কন্যার আচার আচরণ ও চেহারায় বিষয়টি অনুধাবন করতে পারলেও লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে শখের বশে খেতে গিয়ে আসক্ত হয়ে পরে নেশার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীসহ নারীদের মাদক সেবন ও মাদকব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
