বাংলার মুখ

বর্ষার চলনবিল

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ২০:২২

 

চলনবিল বাংলাদেশের বড় বিলগুলোর একটি। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর এই তিনটি জেলার নয় উপজেলায় এই বিল বিস্তৃত। ছোট বড় অনেক ডোবা, খাল ও জলাশয় নিয়ে গঠিত চলনবিল। বর্ষাকালে যেদিকে চোখ যায় শুধুই জলরাশি। চলনবিল প্রাণ ফিরে পায় বর্ষাকালে। এ কারণে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই মৌসুমে চলনবিল হতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য। বর্ষা মৌসুমে সমগ্র বিলাঞ্চলের মানুষের একমাত্র বাহন ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম; সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও শাহ্জাদপুর, পাবনার বনোয়ারীনগর ফরিদপুর, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রায় ১২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের বিলটি ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। এখানে রয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বহু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। যেমন বিনসারায় বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের জিয়নকূপ ও পিতা বাছিয়া বানিয়া সওদাগারের বাড়ি, চাটমোহরের শীতলাইয়ের জমিদার বাড়ি ও ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ইত্যাদি। গুরুদাসপুরে রয়েছে চলনবিল জাদুঘর।

দেশে উত্পাদিত মাছের অন্যতম প্রধান উত্স পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চলন বিলাঞ্চল। কিন্তু প্রতিবছর কমছে এ অঞ্চলে মাছের উত্পাদন, বিলুপ্ত হচ্ছে মাছের প্রজাতি। মানুষের নানামুখী হস্তক্ষেপের কারণে ইদানীং কমতে শুরু করেছে মাছের উত্স। একইসঙ্গে হুমকির মুখে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বেশকিছু মাছ ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্তির পথে এমন মাছের সংখ্যাও কম নয়। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মানসম্মত পোনার অভাব, বিল এলাকায় প্রাকৃতিক জলাভূমির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং ডিমওয়ালা মাছ ধরা প্রভৃতি কারণে বিলুপ্ত হয়েছে দেশি প্রজাতির ২৫ রকমের মাছ।