সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা নানা কারণে পর্যটকদের জন্য পরিচিত। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ হওয়াতে প্রাকৃতিক ঝর্ণা দেখা মিলে এই উপজেলায়। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা, গ্যাস, তৈল, বালু, পাথর, কয়লা, ইউরেনিয়াম, তেজপাতা, কমলালেবু এবং চা-বাগান, লাল শাপলা বিল ও পুরাকীর্তি।
পান-পানি-নারী খ্যাত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর জৈন্তাপুর উপজেলার মানুষ সব ঋতুতে স্বস্তিতে রয়েছেন। যার কারণে প্রকৃতি প্রেমীরা ছুটে আসে পাহাড়ি ঝর্ণা দেখতে। সম্প্রতি পাহাড়ি ঝর্ণার অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে পর পর তিনটি ঝর্ণার সন্ধান পাওয়া যায়।
সেগুলো হল- শ্রীপুর চা-বাগান ঝর্ণা, শ্রীপুর মরা ঝর্ণা এবং খড়মপুর আদুরী ঝর্ণা। সবুজ শ্যামল গাছ-গাছালি এবং ছোট বড় পাহাড় টিলা বেষ্টিত এলাকার উপজেলার শ্রীপুরের খড়মপুর গ্রামে অবস্থিত ‘আদুরী ঝর্ণা’।
সরেজমিনে ঝর্ণার চিত্র এবং অবস্থান অনুসন্ধান করতে গিয়ে উল্লেখিত তিনটি ঝর্ণার সন্ধান মিলে। তিনটি ঝর্ণার মধ্যে শ্রীপুর চা-বাগান ঝর্ণা এবং খড়মপুর আদুরী ঝর্ণার ছবি স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় জৈন্তাপুরের অভ্যন্তের লুকিয়ে থাকা ঝর্ণাগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ঝর্ণাগুলো তার রূপ-লাবণ্য ফিরে পায়। গ্রামবাসী ও বাগান শ্রমিক ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। এছাড়া ঝর্ণাগুলোর অবস্থানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে লোক চক্ষুর অন্তরালে। মাঝেমধ্যে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা বেড়ানোর ছলে ঝর্ণাগুলোতে ছবি তোলে, গোসল করে। কমবেশি সারা বছর খড়মপুর আদুরী ঝর্ণায় পানি প্রবাহ থাকে। বর্ষায় এর প্রবাহ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন আদুরী ঝর্ণার পানি নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে আসছে।
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ফাঁকে ঝর্ণা নিয়ে কথা বলায় জানতে পারি চা-বাগানে এবং খড়মপুরে দুটি ঝর্ণার কথা। আমরা এগুলো দেখতে যাই, ছবি তুলি, পানিতে নেমে গোসল করায় খুব ভালো লাগছে। বাড়ির পাশে ঝর্ণা রয়েছে তা কখনো জানা ছিল না। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝর্ণার ছবি পোস্ট করার পর প্রতিদিন বন্ধু বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ঝর্ণার জানতে চায়। ঠিকানা দিচ্ছি তারা ঘুরে এসে ঝর্ণাগুলো অসাধারণ বলে জানায়। এককথায় ঝর্ণা গুলো জৈন্তাপুর উপজেলাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেবে এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।
বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও পর্যটন প্রেমী সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বির জানান, আমার কাছে ঝর্ণাগুলো অসাধারণ মনে হয়েছে। ঝর্ণাগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত, দু’দেশের সীমান্ত বাহিনীর জটিলতা ও প্রশাসনিক কোনো রকম বাঁধা ছাড়া পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। ঝর্ণাগুলো যদি প্রশাসনিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় তাহলে এলাকাবাসীর প্রয়োজনের পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন খাত পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া জানান, জৈন্তাপুর ইউনিয়নে ঝর্ণার বিষয়টি কয়েকদিন আগে জেনেছি। সেটার বিষয়ে আরও খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পর্যটন উপযোগী হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে ঝর্ণাগুলোকে পর্যটনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করব।
যাতায়াত: সিলেট সোবানীঘাট থেকে বাস, মিনিবাস, লেগুনা ও সিএনজি যোগে শ্রীপুর নামক স্থান থেকে ১ কিলোমিটার পূর্ব উত্তর দিকে চা বাগানের শেষ প্রান্তে খড়মপুর নামক স্থানে আদুরী ঝর্ণার অবস্থান।

