রাজবাড়ী-ঢাকা রুটে ভাঙ্গা ও চন্দনা কমিউটার ট্রেনের উদ্বোধন

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ২১:১৩

রাজবাড়ীর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে উদ্বোধন করা হয়েছে দুই জোড়া কমিউটার ট্রেন। আগামীকাল রোববার সকাল থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

শনিবার (৪ মে) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরে রেলওয়ে স্টেশনে রাজবাড়ী-ভাঙ্গা- রাজবাড়ী (চন্দনা কমিউটার) ও ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা (ভাঙ্গা কমিউটার) ট্রেন দুটির উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।  এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন ।

রেলমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই পথে আরেকটি ট্রেন আমরা চালু করবো। পরের ট্রেনটি নতুন বগি দিয়ে চালু করবো। আবার আগামী দুই মাসের মধ্যে ভাঙ্গা থেকে খুলনা, যশোর হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত আরেকটি ট্রেন চালু হবে। ওই ট্রেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন।  

রেলমন্ত্রী জানান, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত একটি রেললাইন বানানো হবে। সেটি আটটি জেলাকে যুক্ত করবে। কিন্তু এই অঞ্চলের মাটি ভালো না। তাই পুরো লাইনটি হবে এলিভেটেড (উড়াল)।  

জিল্লুল হাকিম বলেন, আমরা চিন্তা করছি, রেলে বর্তমানে দুটি জোন রয়েছে। আরও দুটি জোন তৈরি করা হবে। এর একটি হবে ভাঙ্গা-ফরিদপুর। এটির জোনাল অফিস হবে ভাঙ্গায়। এতে করে ভাঙ্গায় রেলের সেবা আরও বাড়বে।  

চিফ হুইপ বলেন, ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার চাপ অনেকটাই কমে আসবে । আমাদের এলাকার অসংখ্য লোক ঢাকায় বসবাস করেন। অনেকেই কষ্টে, অমানবিকভাবে বসবাস করেন। শিবচর থেকে ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকায় অফিস করার সুযোগ হলে অনেকেই শিবচর ফিরে আসবেন।

তিনি বলেন, আমরা চাই আস্তে আস্তে রাজধানীর চাপটা যেন কমে আসে। আমরা চাই, তারা (ঢাকায় বসবাসরত শিবচরের মানুষ) শিবচরে ফিরে আসুক। শুধু তাই নয়, শিবচর থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করার সুযোগ দিলে, শিবচরের বাইরের লোকজনও শিবচরে এসে বসবাস শুরু করবে। সারা বাংলাদেশেই যদি রেল পথের ব্যবস্থা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। পৃথিবীর উন্নত সব দেশেই রেল সার্ভিসের মাধ্যমেই মানু্ষ এ সুযোগ পেয়ে থাকে। ভারত, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশেই মানুষ রেল যাতায়াতে অফিস করেন। ইনশাআল্লাহ, আমাদেরও সেই স্বপ্ন পূরণ হবে!

উল্লেখ্য, ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ১২১ ও ১২৪ নম্বর ট্রেনটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ভাঙ্গা এক্সপ্রেস। আর ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে ১২২ ও ১২৩ নম্বর ট্রেনের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে চন্দনা এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে ২৪টি প্রথম, ৪৪টি শোভন চেয়ার এবং ৪২৪টি শোভন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা থাকবে। উভয় পথে ভাঙ্গা জংশন, শিবচর, পদ্মা ও মাওয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতি থাকবে। সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার।

ইত্তেফাক/এবি