ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন ৯০ দিন পিছাতে চায় বলেই সিইসিকে সরানোর দাবি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:১১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক মাসেরও কম সময় বাকি। ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা অসত্ উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছে। তাদের এ দাবি অবান্তর, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনকে আরো ৯০ দিন পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রবিবার মন্ত্রী তার কার্যালয়ে ইত্তেফাককে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে একথা বলেন। এসময় তিনি নির্বাচন বানচালের বিষয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি নাশকতা কর্মকাণ্ড শুরু করে। দলের মনোনয়ন ফর্ম বিতরণের নামে তারা নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সেখানে বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। বিএনপি’র এক সন্ত্রাসী পুলিশের গাড়ির উপর উঠে নৃত্যে লিপ্ত হয়। এসময় পুলিশের দুটি গাড়ি তারা পুড়িয়ে দেয়। তাদের হামলায় ২০ জন পুলিশ আহত হয়। এটা নির্বাচন বানচালের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু প্রবাস থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া তার এক সাক্ষাত্কার প্রচার করা হয়েছে। এই দলটি আইনকে তোয়াক্কা এবং নিয়মকানুনের পরোয়া করে না। এটা নির্বাচন বানচালের উস্কানি বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে আছেন ড. কামাল হোসেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন করছেন না। তারা যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে কাকে তারা প্রধানমন্ত্রী করবেন এ প্রশ্নের জবাব দিতেও তারা অপারগ। আর তাই এসব নিয়ে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। এখন নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করছে। কারণ তারা জানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলে ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের। সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলীয় জোট বা মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের ছয়টি জরিপ রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী জনপ্রিয়তার বিচারে যারা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার যোগ্য তাদেরই দল বা জোটের মনোনয়ন দেওয়া হবে। দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে পরাজয়ের ঝুঁকি নিতে আমরা রাজি নই। জোট বা মহাজোটের শরিকদের একথা ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘বিএনপি নানাভাবে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে’

গতকাল রবিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের আগে আন্দোলনের ঘোষণা দুঃস্বপ্নের নামান্তর। আসলে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট ও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বিএনপি নানাভাবে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ এখন নির্বাচনী আমেজ ও মুডে, আন্দোলনের মুডে নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবে তা ঘোষণা করতে না পারা ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় পরাজয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি এবং অসাম্প্রদায়িক শুভ শক্তির নেতৃত্বে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অসাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষে আওয়ামী লীগকেই বিজয়ী করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন নিয়ে অন্যবারের তুলনায় এবার দলের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনেক কমে যাবে। তবে যারা বিদ্রোহী হবে তাদের আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচন না করাই ভালো। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন। সন্ত্রাসী ও সুনির্দিষ্ট মামলার আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।