১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুর-গাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ উল্লাস করে এ অঞ্চলের মানুষ।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতা বলেন, ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় মুক্ত হয়। খান সেনারা পিছু হটতে থাকে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি করে। ঠাকুরগাঁও শহর মুক্ত হয় ডিসেম্বরের ২ তারিখ রাতে অর্থাত্ ৩ তারিখে। তখন বিজয়ের পতাকা হাতে তুলে প্রয়াত তত্কালীন সংসদ সদস্য ফজলুল করিমের নেতৃত্বে শহরে বিজয় মিছিল বের করা হয়। আস্তে আস্তে ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণ কেন্দ্র চৌরাস্তায় সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। তবে সারা শহরে সেভাবে পতাকা টাঙানো হয়নি।
ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আকবর আলী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ঠাকুরগাঁও শহরে সর্বদলীয় একটি বিশাল বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করে তরুণ, যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঠাকুরগাঁও জেলা সাবেক ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা শুনতে পারি ঠাকুরগাঁও মুক্ত হয়েছে। তখন আমরা বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে শহরে প্রথম মিছিল করি। তারপর আস্তে আস্তে সকলকে একত্রিত করে বিজয় পতাকা উত্তোলনের জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে প্রয়াত ফজলুল করিম ও ডা. শেখ ফরিদের নেতৃত্বে আমরা বিজয় শোভাযাত্রা বের করি। শোভাযাত্রায় অনেক মানুষ লাল সবুজ পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণ করে সেদিন।
উল্লেখ্য, ২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। পঞ্চগড়ে পরাজয়ের পর এ অঞ্চলের পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। ৩০ নভেম্বর পাকসেনারা ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে আখ ক্ষেতে মাইন পুঁতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভুল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।
পহেলা ডিসেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ে ঢোকে। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ওই রাতেই শত্রু বাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল এলাকায় অবস্থান নেয়। অবশেষে ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আনন্দ উল্লাস করে এ অঞ্চলের মানুষ।
