শামীম হামিদ, লন্ডন (ইংল্যান্ড) থেকে
পাকিস্তানের সঙ্গে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। আশা ছিল পাকিস্তানকে হারিয়ে সুন্দর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফেরার। কিন্তু তা আর হয়নি। কেন শেষ ম্যাচেও পারল না বাংলাদেশ? অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার মতে, ভারতের কাছে হেরেই মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে গোটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে আরো ভালো করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর টিমের সবাই মানসিকভাবে আপসেট ছিল। একটা টিম যখন বুঝতে পারে যে তাদের আর সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নেই, তখন তারা হতাশ হতে পারে। এমন হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা অনেকভাবে চেষ্টা করেছি ম্যাচটা বের করে আনার। পাকিস্তান গত কয়েকটা ম্যাচ জিতে একটা গতির মধ্যে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ একটিতে জিতলে আবার পরেরটিতে হেরেছে। কখনো আশা আবার কখনো নিরাশা। এটাই পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের কারণ।’
নয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সাত নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল বাংলাদেশ। মাশরাফির মতে, বাংলাদেশের আরেকটু ওপরের দিকে থাকা উচিত ছিল। শেষ চারে না হোক অন্তত পাঁচ নম্বরে থাকতে পারত বাংলাদেশ।
অধিনায়ক মনে করেন, বোলিং আর ফিল্ডিংই ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে তাতে আরেকটু ভালো অবস্থানে আমাদের থাকার সুযোগ ছিল। সেটা পারিনি বোলিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতায়। কিছু কিছু জায়গায় বাংলাদেশকে আরো উন্নতি করতে হবে। ছোটো ছোটো ভুল বড়ো পার্থক্য গড়ে দেয়। আমি প্রথমেই বলব বোলিংয়ের কথা। এটা মোটেই মানসম্মত হয়নি। আমি আমার নিজের কথাই সবার আগে বলতে চাই। তারপর অন্যদের কথা। প্রথম ১০-২০ ওভারে উইকেট তুলে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা আমরা পারিনি। ফিল্ডিংয়ের জন্যই কয়েকটি ম্যাচে আমাদের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। ভালো গ্রাউন্ড ফিল্ডিং দিয়ে কিছু রান বাঁচাতে পারলে বোলাররা উত্সাহ পায়। কিছু ক্যাচ ফেলেছি আমরা। এসব দুর্বল জায়গাগুলোতে আমাদের আরো ভালোভাবে মনোযোগ দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল কম হয়।’
মাশরাফি মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছেন। তবে, বড়ো জুটি গড়া প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাওয়াই এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বড়ো অর্জন। বোলিংয়ে আরো উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড়ো আসরে অনেক ভালো বোলিং প্রয়োজন। এ দিকটায় আমাদের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য গড়ে দেয়। আমাদের এমনভাবে বোলিং করতে হবে যাতে প্রতিপক্ষের রান নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং পরে ব্যাটসম্যানরা তা চেজ করতে পারে। পাশাপাশি ফিল্ডিংটাও আমাদের জন্য বড়ো উদ্বেগের বিষয়। যখনই প্রতিপক্ষের কোনো জুটি দাঁড়াতে শুরু করে তখনই আমাদের ফিল্ডিংয়ের মানও ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকে। বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে আমাদের অবশ্যই উন্নতি করতে হবে। ’
সাকিবের পারফরমেন্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, ‘সাকিব যা খেলেছে তা এককথায় অসাধারণ। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তার পক্ষে সর্বোচ্চটাই সে করেছে। তার জন্য সত্যি খুব খারাপ লাগছে। শুধু আমি না, পুরো টিমই সাকিবের পাশে আছে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন সাকিব। যে টিমে ওর মতো ক্রিকেটার থাকে সেই টিমের আরেকটু ভালো করা উচিত ছিল। মুশিও খুব ভালো ব্যাট করেছে। কখনো কখনো ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না।’
