সাজা ও দণ্ড স্থগিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে- হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিতই থাকছে। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন গ্রহণ করে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং অফিসাররা আদালতের এমন আদেশ অনুসরণ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যেসব দণ্ডিত ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তা বাতিল করে দেন।
গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে দেয়। আদালত অভিমত দেয় যে, সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে। এটা স্থগিত হলেই দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে শনিবার আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিনই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। গতকাল ওই স্থগিত আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও সাবিরার পক্ষে এ জে মোহাম্মদ আলী অংশ নেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না- এটা বিশেষ কোনো দলের বিষয় না। যারা সংসদ সদস্য হতে চান তাদের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। তিনি বলেন, এখন থেকে যারা রাজনীতি ও নির্বাচন করবেন, তারা নিজেদেরকে কলুষমুক্ত ও সত্ রাখতে হবে। মামলা-মোকদ্দমায় দণ্ডপ্রাপ্ত হন- এমন কাজ তাদের করা উচিত নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশ রাজনীতিবিদদের জন্য সতর্ক বার্তা। এতে তারা নিজেরাই এখন হুঁশিয়ার হয়ে যাবেন।
