নার্সারির শিক্ষার্থী শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণ করে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। গতকাল শিশুটির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তিনি এ কথা জানান। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুর বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার পরপরই ঐ বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে একটি ৮ তলা ভবনের ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সায়মা সিলবারডেল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। সে পরিবারের সঙ্গে ঐ ভবনের ৬ তলায় থাকত। ঐ দিন সন্ধ্যার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের পর তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার ঠোঁটে কামড়ের চিহ্ন, মুখে রক্ত এবং যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্নসহ শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
ডা. সোহেল মাহমুদ আরো বলেন, তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এসব ব্যাপারে নিশ্চিত প্রমাণের জন্য ‘হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াবের’ পরীক্ষা করতে হবে। সে কারণে শিশুটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সকল নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এসব প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নুরুল আমিন জানান, হত্যার ঘটনায় সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা ঐ মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পর থেকে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও এ ঘটনা তদন্ত করছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত মামলায় ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।
শিশু সায়মার মায়ের বরাদ দিয়ে অতিরিক্ত উপকমিশার নুরুল আমিন বলেন, সন্ধ্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটি তার মাকে বলেছিল, সে উপরে পাশের ফ্ল্যাটে যাচ্ছে খেলতে। সে প্রতিদিন বিকালে নিচে ও উপরের ফ্ল্যাটে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে যেত। কিন্তু এদিন গিয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে আট তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে মুখ বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু সায়মার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। তার দুই ছেলে, দুই মেয়ে। সায়মা সবার ছোটো। সে ওয়ারী সিলবারডেল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। গত তিন মাস আগে আব্দুস সালাম ওয়ারীর বনগ্রাম মসজিদ রোডের ১৬৯ নম্বর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটটি কেনেন। এরপর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। ঐ ভবনের ৭ তলা ফ্ল্ল্যাটের দুই রুমের মধ্যে এক রুমে দুই তরুণ মেস ভাড়া করে থাকত। পাশের রুমে একটি পরিবার উঠার কথা থাকলেও তারা এখনো ওঠেনি। নিচের ফ্ল্যাটগুলোতে কয়েকটি পরিবার রয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনের অন্য ফ্ল্যাটে সবার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঐ ভবনের ৭ তলা ফ্ল্যাটের ঐ দুই তরুণ এবং ভবনের নিচ তলায় নিরাপত্তাকর্মী ও তার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ঐ ভবনেরই কেউ না কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। খুনি শনাক্ত করতে পুলিশ প্রয়োজনে ভবনের সব পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
