প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-১৭২৩) গতকাল শনিবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ফ্লাইটটি গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিদায়বেলায় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার লু ঝায়োহু পৃষ্ঠা এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজুলল করিম তাঁকে বিদায় জানান।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর আমন্ত্রণে গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান করেন এবং ‘কোঅপারেশন ইন দি প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর বিষয়ে বেইজিং ঢাকাকে আশ্বস্ত করে। দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বেইজিংয়ে অবস্থানকালীন শেখ হাসিনা কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) মিনিস্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সং তায়ো-এর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। এসময় সিপিসি মিনিস্টার প্রলম্বিত রোহিঙ্গা সমস্যাটি সমাধানের বিষয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং মিয়ানমারের অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর দলের আলোচনার বিষয়ে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ঢাকা এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ৪ জুলাই চীনা প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন সিপিসির কার্যালয় গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওই (লেটার অব এক্সচেঞ্জ)। এর আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য চীন ২ হাজার ৫০০ টন চাল সরবরাহ করবে বলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জানান। স্বাক্ষরিত অন্য চুক্তিগুলো হচ্ছে- ২. সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক। ৩. ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। ৪. ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুত্ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। ৫. বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি। ৬. ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক। ৭. পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুত্ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। ৮. ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুত্ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট। ৯. ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুত্ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট।
প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন কাল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সোমবার বিকাল ৪টায় গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। সম্প্রতি চীনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দিনের সরকারি সফরের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে পাঁচদিনের দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন।
