রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ফরিদপুরে তৈরি হচ্ছিল নকল স্যালাইন-শিশুখাদ্য

কারখানা সিলগালা

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১৯:২০

ফরিদপুরে নকল স্যালাইন কারাখানার সন্ধান মিলেছে। স্যালাইন ছাড়াও বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের শিশু খাদ্যের সদৃশ্য পণ্যও তৈরি হচ্ছিল সেখানে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে চালানো অভিযানে কারখানাটি সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। সেইসঙ্গে কারখানা মালিককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

কারখানা ও গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এসএমসি ওরস্যালাইন এবং ইউনিভার্সাল টেস্টি স্যালাইনের হুবুহু নকল স্যালাইন বানানো হচ্ছে। এসব পণ্যের মোড়কের নিচে ছোট করে রুপা ফুড প্রডাক্টস লেখা ছাড়া বাবি সবটাই আসল পন্যের মত। সেইসঙ্গে নামী দামী ব্র্যান্ডের চিপস, চানাচুর, বুট, মটর ভাজার মোড়কের আদলে মোড়ক বানিয়ে বানানো হচ্ছিল নিম্মমানের পণ্য।

এনএসআই সূত্র জানায়, বেশ কয়েকদিন আগে তারা ফরিদপুর শহরতলীর কানাইপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের জাফর মোল্যার মালিকানাধীন রুপা ফুড প্রডাক্টস নামের এই প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পান যেখানে নকল স্যালাইন বানানো হয়। পরে ছদ্মবেশে তদন্তে নামে এনএসআই। সেখানে নকল স্যালাইন বানানোর বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয় ওই কারখানায়। 

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শাহাদাৎ হোসেন নকল স্যালাইনের একটি প্যাকেট দেখিয়ে বলেন, দেখেন আসল এসএমসি ওরস্যালাইনের সঙ্গে কোনো পার্থক্য নেই। স্যালাইন কোনো খাবার না, ঔষধ। স্যালাইন বানাতে যে ধরনের অনুমতি লাগে তা নেই এই কারখানা মালিকের। একই সঙ্গে অদক্ষ কর্মী দিয়ে করা হচ্ছিল স্যালাইনের প্যাকেজিং। এছাড়াও মোড়ক নকল করাও অপরাধ। স্যালাইন ও খাদ্যপন্য মজুদ করার যে প্রক্রিয়া সেটাও মানা হয়নি এখানে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে কারখানা ও গোডাউনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশীদ জানান, স্যালাইনসহ অন্য পণ্য সংরক্ষণের যে নিয়ম তাও মানা হয়নি এখানে। এভাবে রাখা হলে সঠিক পন্যের মানও নষ্ট হতে পারে। তিনি আরও জানান, একই অপরাধে কয়েক মাস আগে এই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর। তখন কারখানা মালিক মুচলেকা দিয়েছিল এধরনের অপকর্ম আর করবেন না, কিন্তু তিনি তার কোন অপকর্মই বন্ধ করেননি। 

অবশ্য অভিযোগ অস্বিকার করে বৈধ কাগজপত্র আছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত কারখানা মালিক জাফর মোল্যা। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি