উচ্চ ট্যারিফের কারণে সুপারি আমদানিতে অচলাবস্থা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৩

উচ্চহারে আরোপিত ট্যারিফের কারণে সুপারি আমদানিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তপথে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ চোরাই সুপারি। ফলে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা। অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। সাম্প্রতিক এ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন সুপারি আমদানিকারক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, ধার্যকৃত ট্যারিফের হার পুনর্বিবেচনা এবং চোরাইপথে অবৈধভাবে সুপারি আসা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সুপারির বাজার আবারও স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর সুপারির মোট চাহিদা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। এ বিশাল চাহিদার ৪০ ভাগ সুপারি দেশে উত্পন্ন হলেও অবশিষ্ট চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। সাধারণত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সুপারি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু গত প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে চোরাচালানের মাধ্যমেই দেশে আসছে বেশিরভাগ সুপারি। চোরাইপথে আনা সুপারি দেশের বাজারে কমমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বড় অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাঁচ বছর আগেও বছরে প্রায় তিন-চার হাজার কনটেইনার (প্রতিটি কনটেইনারে ১৮ মেট্রিক টন) সুপারি আমদানি করা হয়েছে। সে হিসেবে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সুপারি আমদানি করা হতো। উচ্চহারে ডিউটি ধার্য করায় বা শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় আমদানি অনেকাংশে কমে গেছে। গত তিন বছর ধরে আমদানি কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টনে। এ পরিস্থিতিতে চোরাইপথে সুপারি আমদানি ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। দেশে সুপারির ব্যাপক চাহিদার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সুপারি আনছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে প্রায় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে সুপারি আমদানি হয়েছে গড়ে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সুপারি আমদানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টনে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, সুপারি ব্যবসায়ীরা তার কাছে অভিযোগ করেছেন, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই সুপারি আসছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুপারি চোরাচালান বন্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন বলে চেম্বার সভাপতি অভিমত ব্যক্ত করেন। সুপারি আমদানিতে উচ্চহারে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, শুল্ক হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণে আমদানিকারকরা উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রাম চেম্বার সরকারের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে পারে। এতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসাবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা যায়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক সৈয়দ ছগির আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, উচ্চহার ট্যারিফের কারণে সুপারি আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে চোরাচালান করে সুপারি আনার সুযোগটি নিচ্ছে অসত্ ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতিরমুখে সুপারি আমদানি থেকে সরে এসেছেন। 

আমদানিকারক ও চাক্তাই কেন্দ্রিক সুপারির পাইকারি ব্যবসায়ী আযম খান বলেন, চোরাইপথে অবৈধভাবে সুপারি আনায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। আমদানিনির্ভর বিক্রেতাদের খুব খারাপ সময় যাচ্ছে।