দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি পৃথক ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি আটক হয়েছে। ইত্তেফাকের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
গলাচিপায় ১১ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস হাদিউল উম্মা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মোহম্মদ ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস হাদিউল উম্মা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোহম্মদ ফরাজী গত ২৬ জুন সকালে ফজরের নামাজের পর আরো সাতজন শিশুকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়াতে বসেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ওই শিশুটিকে অন্য কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর শিশুটি কান্নাকাটি করে দৌড়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে, কিন্তু কাউকে কিছু বলেনি। পরে বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে সব কথা খুলে বলে।
অন্যদিকে, গাইবান্ধার গোবীন্দগঞ্জ উপজেলায় দুই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা মোকাব্বর আলী নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তিনি উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। বাড়ির নিকটবর্তী এক শিশুকে আম খাওয়ার প্রলোভন দিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে মোকাব্বর আলী। শিশুটির চিত্কার শুনে লোকজন এসে মোকাব্বরকে হাতেনাতে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া, চরফ্যাশনের দুলারহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে দুলারহাট থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। সোহাগ নুরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম ব্যাপারীর ছেলে।
এদিকে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গত এক বছরে দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ছয়জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেছেন পুলিশের হাতে আটক মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী। তিনি বলেছেন, নিজ মাদ্রাসার ছাত্রীদের তার গোপন কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করার পর তাদেরকে পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ওপর হাত রেখে কাউকে কিছু না বলার জন্য শপথও করাতেন। এসব ঘটনায় ধর্ষণের শিকার দুই মাদ্রাসাছাত্রীর অভিভাবক থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহজাহান মিয়া তার নিজের ফেসবুক আইডিতে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন।
পৃথক ঘটনায় জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুরে আত্মহননকারী স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে ফরেনসিক প্রতিবেদনে। ইতিমধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রাজশাহীর সহকারী পুলিশ সুপার সুমন দেব এ তথ্য জানিয়েছেন।
