বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ইবিতে পচাঁ মাংস পরিবেশনের অভিযোগে রেস্তোরাঁয় তালা

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ১৩:১৫

খাবারে পঁচা মাংস পরিবেশনের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসস্থ জিয়ামোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় তালা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঐ রেস্তোরাঁর নাম ঢাকা বিরিয়ানি হাইজ।

বুধবার (১৫ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আমজাদ হোসেন, ইয়ামিন মাসুম, মো. নাসির মিয়া প্রমুখের উপস্থিতিতে রেস্তোরাঁটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রেস্তোরাঁটিতে খাবার খেতে যান শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়। এসময় তিনি  মোরগ-পোলাও অর্ডার করেন। তবে তাকে পরিবেশন করা মুরগির রোস্টটি বাসি বলে মনে হলে তিনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে দোকান কর্তৃপক্ষ পঁচা মাংসের বিষয়টি শিকার করে নিয়ে বাবুর্চির ভুল বলে দাবি করেন। এদিকে এ রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আগের দিনের পঁচা বাসি খাবারের সঙ্গে নতুন করে রান্না করা খাবার মিশিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, এই দোকান থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসের দুই থেকে আড়াইহাজার শিক্ষার্থী খাবার নিচ্ছে। তাদের সবার সাথে কিন্তু অন্যায় টা হচ্ছে। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা খাওয়া-দাওয়া করে এ অন্যায়টুকু মেনে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এর প্রতিবাদ করেছি। 

তিনি আরও বলেন, আমি চাই এই দোকানদার সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং প্রশাসনসহ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সামনে কথা দিবে যে, আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো খাবার খাওয়াবো, শিক্ষার্থীদের আর ঠকাবনা। তারপর তাদের ব্যবসা চলমান রাখবে।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসের ভিতরে দোকান থাকলেও ঐ রেস্তোরাঁয় রান্না হতো বাহিরে। বাহিরের কিচেন থেকে প্রতিদিন বিরিয়ানি, খিচুড়ি রান্না করে এনে বিক্রি করা হতো ক্যাম্পাসের জিয়া মোরে অবস্থিত ঢাকা বিরিয়ানী হাউজে। তবে না বিক্রি হওয়া মুরগীর মাংস ও রাইস পরদিন গরম করে আবারো শিক্ষার্থীদের খাওয়াতেন বলে অভিযোগ করেন তারা। 

এবিষয়ে জানতে রেস্তোরাঁ মালিককে পাওয়া না গেলেও, দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী বাবুর্চির উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, খাবার খেতে আসলে ভাইয়ের ( ছাত্রলীগ সম্পাদক) প্লেটে যে খাবারটা দেওয়া হয়েছিল ওই খাবারে একটু সমস্যা ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা জানতাম না। বাবুর্চি হয়তো আগের খাবারের সাথে নতুন খাবার মিশিয়ে দিয়েছিল। বাবুর্চি যদি ভুল করে তবে কর্মচারী হিসেবে আমাদের কিছু করার থাকে না।

সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর মোঃ ইয়ামিন মাসুম বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে খারাপ খাবারের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা সাময়িক সময়ের জন্য দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এআই