শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দুই মাসেও দেখা নেই বৃষ্টির, মরে যাচ্ছে গাছপালা 

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ১৭:১১

একটানা দুই মাস ধরে খরা, অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসল রক্ষার পাশাপাশি মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসলেও এ উপজেলা টানা দুই মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। সে কারণে স্বরণকালের তীব্র খরার কবলে উপজেলাবাসী। প্রচণ্ড খরায় থাকায় পানির তীব্র সংকট ও ফসলি জমির উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, টানা দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের বিভিন্ন ফসল ও সুপারিসহ বিভিন্ন গাছ-পালায় প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ফলে যান্ত্রিক উপায়ে পানি সেচের ব্যবস্থাও অনেকের কাজে আসছে না। খরতাপ শুরু হওয়ায় তীব্র তাপদাহের মাঝে পানির সংকট দেখা দিয়েছি। তীব্র খরা পরিস্থিতিতে চৈত্র, বৈশাখী ও জ্যৈষ্ঠ মাস এসেও পানির স্তর ৩৫ থেকে ৪০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। ফলে বিভিন্ন সড়কসহ যে সকল যায়গায় সেচের পানি দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সুপারি ও ফলের গাছ মরে যাচ্ছেন। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে সুপারি বাগানসহ গাছপালাগুলোর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে চাষিরা।

অন্য দিকে কাঠফাটা রোদ ও সড়কে ধুলাবালির তীব্রতায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে কোথাও বেড়িয়ে পড়লে ধুলাবালি দিয়ে চোখ-মুখে পড়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। সেইসঙ্গে পোশাক পরিচ্ছেদও ময়লা হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপদাহ ও ধুলাবালির কারণে প্রতি ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দির প্রকোপ দেখা দিয়েছি।

উপজেলার কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, এমন খরা আগে দেখিনি। তিনি ১ বিঘা জমিতে পাট-শাক পোঁ করেছে ও ২০ শতক জমিতে সুপারির বাগান। তীব্র খরার কারণে এই দুই ফসল রক্ষার্থে দুইদিন পর পর তিনি পানি দিচ্ছেন। এতে তার কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

গজেরকুটি গ্রামের কৃষক রনজিৎ কুমার রায় জানান, তিনি ২০ দিন আগে বস্তায় করে আদা চাষ করেছে। অনাবৃষ্টির কারণে এখনো গাছ বেড়ে উঠেনি।

কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষানি সুচিত্রা রানী রায় জানান, অতি খরার কারণে তার ১৫ টি সুপারির গাছ মরে গেছে। সে সাথে অধিক মাত্রায় তাপদাহ ও ধুলাবালির কারণে তার দুই মেয়ের জ্বর-সর্দিতে ভুগছেন। সেই সঙ্গে টানা ২০ দিন দিন ধরে টিউবওয়েলের পানিও বের হচ্ছে না। বড় অসহনীয় দুর্ভোগ পাড় করছি।

উত্তরশিমুলবাড়ী এলাকার কৃষক তোফাজ্জাল হোসেন বাচ্চু জানান, তিনি বালারহাট-ফুলবাড়ী যাওয়ার সড়কের দুই পাশে ১০০টিরও অধিক গাছ লাগিয়েছেন। কাঠফাটা রোদে প্রায় ৬০টি সুপারির গাছ মরে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, সুপারির গাছসহ কোনো ধরণের গাছপালা মরে যাওয়ার কোনো তথ্য পাইনি। তবে টানা খরায় কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সুপারি, আম, লিচু, নকটন ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল রক্ষার জন্য সেচ ও শ্যালো-মেশিনের পানি দেয়ার পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি