ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৫৭ শ্রমিক নিহত

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:১৯

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৫৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি’র করা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিষ্ঠানটি ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও ১১টি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই জরিপ করেছে। জরিপে দেখা গেছে, এ সময় সারা দেশে কর্মক্ষেত্রে ২১০টি দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে একই সময়ে ২৮৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৫২ জন শ্রমিক।

তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখেছে, সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, মোট ১৩৪ জন। এর মধ্যে পরিবহন খাতের শ্রমিকের সংখ্যা ১২৯। তারা বাস, ট্রাক, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর ও হেলপার হিসেবে কাজ করার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এর বাইরে একজন নির্মাণশ্রমিক ও চারজন দিনমজুর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

পরিবহন খাতের পরই রয়েছে নির্মাণ খাত। নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ৫১ জন।  খোলা আকাশের নিচে মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাত ও বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন কৃষিশ্রমিক।

মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শক্ত বা ভারী কোনো বস্তুর আঘাত বা তার নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন ৩১ জন, বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ২১ জন, ছাদ বা মাচা থেকে পড়ে ১৯ জন, পাহাড় বা মাটি ধসে ১৬ জন, বিভিন্ন বিস্ফোরণে ৯ জন, রাসায়নিক দ্রব্য বা সেপটিক ট্যাংক বা পানির ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে সাতজন, ব্রিজ, ভবন, ছাদ বা দেওয়াল ধসে পাঁচজন শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া অন্যান্য কারণে আটজন শ্রমিক নিহত হন।

সেফটি অ্যান্ড রাইটসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর দুর্ঘটনার এমন চিত্র তুলে ধরি এবং এগুলো কমিয়ে আনার কথা বলি। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সাধ্যমতো চেষ্টা করি শ্রমিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে।’