মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ফেরত দিতে হবে বেতন-ভাতা

গেজেট ও শপথ ছাড়াই তিনি ৫ বছর ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান!

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ১৯:৫৭

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন ৫ বছর। তবে গেজেট ও শপথ না হওয়ায় গত ৫ বছরে নেওয়া সরকারি সব সুযোগ–সুবিধা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  

৫ বছর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ওই সময়ের উপজেলা চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আব্দুল হালিমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। এছাড়া অপর প্রার্থী এ এস এম শহিদুল্লাহ মজুমদারের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন আদালত। ঋণখেলাপির দায়ে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছিল। 

আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান বলেন, মেজবাউল ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও অন্য দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াসহ জটিলতার কারণে তাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হিসেবে গেজেট করা হয়নি। তাকে শপথও দেয়া হয়নি। এ সত্ত্বেও ২০১৯ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ঘোষণা এবং ফলাফলের গেজেট ও শপথ ছাড়া তার দায়িত্ব পালন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় চেযারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী

তবে এই সময়ে পরিষদের নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যক্রম বৈধ বিবেচিত হবে বলে রায়ে এসেছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।চেয়ারম্যান হিসেবে মেসবাউল যে বেতন-ভাতা ও সুবিধা নিয়েছেন ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৬১৯ টাকা। তা রায় পাওয়ার এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বলেছেন। এই সময়ের মধ্যে ফেরত না দিলে ফেনীর জেলা প্রশাসককে তার থেকে তা আদায় করতে বলেছেন। রায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান জানান, রায়ে বলা হয় এখন নতুন করে ওই নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই। আগামী ৫ই জুন ছাগলনাইয়ায় ৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনে আর কোনো বাধা রইলো না। ইতিমধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকরী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয়েছে। আগামী ২০শে মে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে এবার দলীয় মৌন সমর্থন না পাওয়ায় বিগত সময়ে ‘চেয়ারম্যান পদে অবৈধ দায়িত্ব পালনকারী’ সেই মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।


আদালতে আব্দুল হালিম ও শহীদ উল্যাহ মজুমদারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার এসএম কফিল উদ্দিন। সোহেল চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ ও মো. অজি উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। 

ইত্তেফাক/এনএ