মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কুষ্টিয়ায় ধানকাটার বিরোধে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ২১:৪৯

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ধান কাটা বিরোধের জের ধরে স্ত্রীর বড় ভাই কৃষক ইউনুস আলীকে (৬০) কুপিয়ে হত্যা করেছে ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন। 

শনিবার (১৮ মে) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দবন গ্রামের ধানক্ষেতে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এতে নিহত ব্যক্তির দুই ছেলেসহ অনন্ত আরও পাঁচ ব্যক্তি আহত হয়।

জানা গেছে, শিলাইদহের খোর্দ্দবন মাঠে কৃষক ইউনুসের সেচ প্রকল্প থেকে মোক্তারের ধানক্ষেতে সেচ সরবরাহ করা হয়। ধান কাটার সময় সেচ সরবরাহকারী ইউনুস ক্ষেতের মালিক মোক্তারের কাছে সেচবাবদ ধানের ভাগ দাবি করেন। কিন্তু ধান ক্ষেতের মালিক মোক্তার হোসেন ইউনুসকে ধান দিতে অস্বীকৃতি জানান। ইউনুসের কাছে পূর্বের পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে সেচ সরবরাহ বাবদ ভাগের ধান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মোক্তার। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কৃষক ইউনুস আলী তার লোকজনসহ সেচ সরবরাহ বাবদ ভাগের দাবিকৃত ধান কাটা শুরু করলে প্রতিপক্ষ মোক্তার বাধা দেয়। এক পর্যায়ে মোক্তারের লোকজন হাসুয়া, ধান কাটা কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ইউনুসের আক্রমণ-হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্রের কোপে এ কৃষক ই্উনুস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দবন গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। নিহত কৃষক ইউনুস প্রতিপক্ষ মোক্তারের স্ত্রীর আপন বড় ভাই। পুলিশ হত্যকাণ্ডে জড়িতদের কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে পুলিশ জানায়। শনিবার কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
 
হামলায় আহতরা হলেন নিহত ইউনুস আলীর দুই ছেলে রাসেল হোসেন ( ২৮) ও হোচেন আলী (২২) এবং রকিবুল ইসলাম (৪০), চাঁদ আলী (৪৫) ও অরুন আলী (৪২)। আহতদের কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে বলে ওসি জানান। 

ইত্তেফাক/পিও