ভারতে ধর্মের নামে বিভেদ বাড়ছে ---------------অমর্ত্য সেন

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:২১

ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতে ধর্মের নামে বিভেদ বাড়ছে। জোর করে বুলি আওড়ানোর চেষ্টা ও মারধর করা হচ্ছে। এটা বিপজ্জনক প্রবণতা বলে শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অমর্ত্য সেন। ‘জয় শ্রীরাম’ এখন মানুষ মারার অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন এমন পরিস্থিতিতে জরুরি মানবাধিকার শিক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। খবর জি নিউজ ও আনন্দবাজার পত্রিকার

শুক্রবার বিকেলে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন অমর্ত্য। বিষয় ছিল-‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিতে কলকাতা’। তবে ওইদিন সকালেও শিশির মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও বঙ্গ সংস্কৃতি এবং হিন্দুত্ববাদের ‘আস্ফাালন’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন অমর্ত্য সেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতায় অমর্ত্য বলেন, আজ যখন শুনি বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ভীত, শঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরোন এই শহরে, তখন আমার গর্বের শহরকে চিনতে পারি না। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জয় শ্রীরাম, রাম নবমী্ত এসব কোনো কিছুর সঙ্গেই বাঙালির কোনো যোগ নেই। এখানে দুর্গাপুঁজা হয়। বস্তুত, নতুন এই সংস্কৃতি আমদানির পিছনে বিভেদের রাজনীতি কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত দেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতে, এক সময় হিন্দু মহাসভা এ ধরনের সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বাংলায়। বিভেদের রাজনীতির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন বিজেপি ঠিক সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

অর্মত্য বলেন, ধর্ম নিয়ে ভারতবর্ষে এখন নতুন করে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ভারতের সংবিধানে বিভিন্ন ধর্মের যে স্থান তাতে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার শিক্ষার উপযোগিতা নিয়ে অর্মত্য বলেন, ছোট থেকে শিক্ষার মাধ্যমে যে চেতনা গড়ে ওঠে সেই চেতনা গঠনের জায়গাটাতেই বদল আনতে হবে। অবহিত হতে হবে অন্যের অধিকারের বিষয়ে। দাঁড়াতে হবে অন্যের বিপদে।