মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

এজেন্টদের দাপটে বিপাকে লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৪:০৫

পণ্যের এজেন্ট বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পণ্য পরিবহনের লাইটারেজ জাহাজ ব্যবসা। পরিচালনায় দ্বন্দ্বের কারণে কিছু জাহাজ নিয়মিত ভাড়া পেলেও অধিকাংশ জাহাজ ভাড়াই পাচ্ছে না। এতে সাধারণ জাহাজমালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এজেন্টদের কাছে জাহাজমালিকদের শত কোটি টাকা ভাড়া বকেয়া থাকলেও পরিশোধ করছে না।

এমনকি পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাবদ ডেমারেজের টাকাও নিয়ম অনুসারে পরিশোধ না করায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ জাহাজ মালিকরা। লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটার সেল গত ডিসেম্বরে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে নৌপথে পণ্য পরিবহনে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। লোকসানে টিকতে না পারায় অনেকেই স্ক্র্যাপ হিসেবে জাহাজ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, পণ্য পরিবহন নিয়ে পণ্যের এজেন্টদের আধিপত্যের কারণে সাধারণ জাহাজমালিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রায় ২৭ জনের মতো পণ্যের এজেন্ট রয়েছেন। তার মধ্যে চার/পাঁচ জন এজেন্ট নৌপথে পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘদিন যাবত এজেন্টরা আমদানিকারকদের সঙ্গে পণ্য পরিবহন নিয়ে চুক্তি করে ওয়াটার সেল থেকে জাহাজ ভাড়া নিয়ে পরিবহন করেন। পণ্য পরিবহনে টন প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। এজেন্টেদের মধ্যে অনেকেই লাইটারেজ জাহাজের মালিক হয়ে গেছেন। ফলে জাহাজ পরিচালনা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে গত ডিসেম্বরে জাহাজমালিকদের সংগঠন ওয়াটার সেল ভেঙে যায়। পরে জাহাজমালিকদের একাংশ ‘ইনল্যান্ড ভেসেল ওয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগং’ নামে আলাদা সংগঠন গঠন করেন। সম্প্রতি সময়ে সেটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ওয়াটার সেল ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কিছু জাহাজ কম ভাড়ায় প্রতিযোগিতা দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে। এতে কিছু জাহাজ নিয়মিত ভাড়া পেলেও সাধারণ মালিকদের ৬০০ থেকে ৭০০ জাহাজ ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারছে না।          

চট্টগ্রাম থেকে টন প্রতি ভাড়া ৫৭৩ টাকা নির্ধারণ থাকলেও এজেন্ট পরিচালিত জাহাজগুলো আরও কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করছে। একাধিক জাহাজমালিক অভিযোগ করে জানান, পণ্য পরিবহনে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে না পারলে দৈনিক টন প্রতি ১৫ টাকা হারে ভাড়া পরিশোধে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জাহাজগুলো পণ্য মজুদের গুদামে পরিণত করা হয়েছে। কোনো কোনো জাহাজ থেকে তিন/চার মাসেও পণ্য খালাস করা হচ্ছে না। এতে জাহাজপ্রতি এজেন্ট বা আমদানিকারকদের কাছে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ডেমারেজের টাকা বকেয়া থাকলেও পরিশোধ করছেন না। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধের পর আর বাকি ডেমারেজের টাকা দিচ্ছে না। এতে জাহাজমালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে একাধিক জাহাজমালিক অভিযোগ করেন। তারা জানান, এজেন্টদের কাছে জাহাজমালিকদের শত কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও পরিশোধ করছে না।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত জাহাজমালিক কাজী শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত তিন সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর সেল’ গঠনের জন্য একমত হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে জাহাজের সিরিয়াল দেওয়া হবে। দুই/এক দিনের মধ্যে তিন সংগঠনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই সংগঠন পরবর্তী সময়ে এজেন্টদের কাছে জাহাজমালিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

ইত্তেফাক/এমএএম