শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দল বিশ্লেষণ

টি-টোয়েন্টির আফগান-শক্তি জ্বলবে এবার?

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ১৮:৫৪

দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ সময় ২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে শুরু হচ্ছে কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসর। ২২ গজের লড়াইয়ের উত্তাপে গা মাখছে ক্রিকেটবিশ্ব। কোন দলের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা, সেই আলোচনাও চলছে। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ২০ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়েই এই আয়োজন। আজ থাকছে আফগানিস্তানকে নিয়ে-

টি-টোয়েন্টিতে বড় দল-ছোট দল বলে কিছু নেই- কথাটা প্রায়ই শোনা যায় ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষকদের মুখে। আফগানিস্তানকে নিয়েও একসময় এই কথা চালু ছিল। তবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে দলটি এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তি পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে তাদের সেমিফাইনালে দেখছেন তাদের! বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় আফগান ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি।

বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে পর্যন্ত তাদের দাপট। রশিদ খান তো বিশ্বের প্রায় সব লিগেই খেলে থাকেন। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবিও মাতিয়ে যাচ্ছেন টি-টোয়েন্টি লিগ। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, মুজিব উর রহমান, ফজলহক ফারুকী, আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের মতো তারকারা।

এবারের বিশ্বকাপে তাই আফগানদের সমীহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাপুয়া নিউগিনি ও উগান্ডা। এই গ্রুপ থেকে রশিদ খানরা সুপার এইটে জায়গা করে নিলে সেটি মোটেও অঘটন হবে না।

অবশ্য ২০২২ সালের বিশ্বকাপে এই আফগানরাই চূড়ান্ত হতাশার জন্ম দিয়েছিল। সুপার টুয়েলভের গ্রুপ পর্বে কিছুই করতে পারেনি। কোনও ম্যাচ না জিতে শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ। দুই বছর আগের সেই হতাশা ঝেরে রশিদ খানের নেতৃত্বে নতুন উদ্যোমে বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় তারা।

এই দলটির মূল শক্তি বোলিং। দলে আছেন দারুণ সব স্পিনার। রশিদ খানের সঙ্গে স্পিনে পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত আছেন মুজিব উর রহমান, নুর আহমেদ ও মোহাম্মদ নবি। পেস আক্রমণে রয়েছেন ফারুকী, ওমরজাই, নাভিন-উল-হকেরা। ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে রহমানউল্লাহ ‍গুরবাজ, নবি, ইব্রাহিম জাদরানরা জ্বলে উঠলে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে তাদের।
 

একনজরে:

অধিনায়ক: রশিদ খান।

কোচ: জোনাথন ট্রট।

ডাকনাম: আফগান।

র‌্যাংকিং: ১০।

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ৬ বার (২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২)।

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: সুপার টেন- ২০১৬ এবং সুপার টুয়েলভ- ২০২১ ও ২০২২

আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স

২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একেবারেই ভালো যায়নি আফগানিস্তানের। সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেললেও সেখানে ছিল কেবলই হতাশা। কোনও ম্যাচ না জিতে শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ। গ্রুপ-১ থেকে পাঁচ ম্যাচ খেলে হেরেছিল তিনটিতে। বাকি দুই ম্যাচ হয় পরিত্যক্ত। ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানি থেকে শেষ করে বিশ্বকাপ অভিযান।

আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ সূচি

৪ জুন: উগান্ডা (গায়ানা), সকাল ৬-৩০ মিনিট

৮ জুন: নিউজিল্যান্ড (গায়ানা), ভোর ৫-৩০ মিনিট

১৪ জুন: পাপুয়া নিউগিনি (ত্রিনিদাদ), সকাল ৬-৩০ মিনিট

১৮ জুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সেন্ট লুসিয়া), সকাল ৬-৩০ মিনিট

নজরে থাকবেন

রশিদ খান: আফগানিস্তানের ক্রিকেটের কথা বললে সবার আগে আসবে রশিদ খানের নাম। বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার দাপট। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা লেগ স্পিনারও তিনি। এবার কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে আফগানরা নামতে যাচ্ছে তার নেতৃত্বে। আইপিএলে সময়টা খুব একটা ভালো কাটেনি। তবে কে না জানে নিজের দিনে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন রশিদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করছে এই স্পিনারের পারফরম্যান্সের ওপর। এর ওপর নেতৃত্বের বাড়তি দায়িত্ব তো থাকছেই।

মোহাম্মদ নবি: বয়স ৩৯ পেরিয়ে গেছে। তবে এখনও আফগানিস্তানের অন্যতম ভরসা মোহাম্মদ নবি। মিডল অর্ডারে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে যেমন ব্যাট করতে পারেন। তেমনি কব্জির জোরে অনায়াসে বল ফেলতে পারেন সীমানার ওপারে। বল হাতেও পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন তিনি। কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের দিকে আফগানদের প্রত্যাশার ভার থাকবে নিশ্চিত।

আজমতউল্লাহ ওমরজাই: ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দিয়ে আইপিএলেও সুযোগ মিলেছে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের। গুজরাট টাইটানসের এই অলরাউন্ডার আফগানিস্তনের জার্সিতে খেলছেন ২০২১ সাল থেকে। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক পরের বছর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাটিং-বোলিং আহামরি না হলেও এবারের বিশ্বকাপে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন তিনি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আইপিএল। বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবেন বিশ্বকাপে।

শক্তি

বোলিং আফগানিস্তানের মূল শক্তির জায়গা।

দলে আছেন বিশ্বসেরা সব স্পিনার।

রশিদ খান-মুজিব উর রহমানরা জ্বলে উঠলে বিশ্বের যেকোনো দলকে দিতে হবে পরীক্ষা।

পেস আক্রমণে রয়েছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই-ফজলহক ফারুকীর মতো বোলার।

দুর্বলতা

ব্যাটিং নিয়ে ভুগতে হতে পারে।

একাই ম্যাচ বের করে নিতে পারেন, এমন খেলোয়াড়ের অভাব।

চাপে পড়লেই ভেঙে পড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইন।

ভবিষ্যদ্বাণী: সুপার এইট।

আফগানিস্তান স্কোয়াড: রশিদ খান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটকিপার), ইব্রাহিম জাদরান, ফরিদ আহমেদ, ফজলহক ফারুকী, মুজিব উর রহমান, নাভিন-উল-হক, নুর আহমেদ, মোহাম্মদ ইসহাক (উইকেটকিপার), নাজিবউল্লাহ জাদরান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, করিম জানাত, মোহাম্মদ নবি, নাঙ্গিয়াল খারোতি।

ইত্তেফাক/জেডএইউচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন