শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মৃত্যুর ৬ মাস পর আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা, স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ২০:০৫

লালমনিরহাটে পল্লী চিকিৎসক হরেন্দ্রনাথ সেনের লাশ উদ্ধারের ৬ মাস পর আদালতে ছেলের করা মামলায় হরেন্দ্রনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। 

বুধবার (২২ মে) রাতে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মাধবী রাণী (৪৫) ও তার মেয়ে তাপসী রাণীকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত পল্লী চিকিৎসক হরেন্দ্রনাথ সেন ওই গ্রামের মৃত হেমন্ত সেনের ছেলে। 

গ্রেপ্তার মাধবী রাণী হরেন্দ্রনাথের দ্বিতীয় স্ত্রী। আর তাপসী রাণী নিহত হরেন্দ্রনাথ ও মাধবী রাণী দম্পতির মেয়ে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নিহত পল্লী চিকিৎসক হরেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী মারা যান ১৯৯৮ সালে। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন মাধবী রানী সেনকে। ২০১২ সালে নিহতের প্রথম স্ত্রীর সন্তান প্রশান্ত ও প্রদীপকে বাড়ি থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। এরপর দুই ভাই কোনদিনই আর বাড়িতে ফিরতে পারেননি। দ্বিতীয় স্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন হরেন্দ্রনাথ সেন। নিজের ছেলে সন্তান না থাকায় সতীনের ছেলেদের বঞ্চিত করে মাধবী রানী সেন কৌশলে স্বামীর কাছ থেকে সব জমি নিজের নামে লিখে নেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মাধবী রানী অন্য আসামিদের সহযোগিতা নিয়ে হরেন্দ্রনাথ সেনকে কৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহটি ঘরের মেঝের ওপর রেখেছিলেন। এসময় আসামিরা বাড়ির ভেতর ছিলেন। বাড়ির প্রধান দরজা বন্ধ রাখায় গ্রামের লোকজন বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর ওইদিন বিকালে সদর থানা পুলিশ হরেন্দ্রনাথ সেনের মরদেহ উদ্ধার করেন। 

এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলার অভিযোগ দেন হরেন্দ্রনাথের ছেলে প্রশান্ত সেন। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিলে গত ১৩ মে মাধবী রাণীসহ আটজনকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসাইনের আদালত ওইদিনই মামলাটি রেকর্ড করে ৫ দিনের মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশকে। আদালত থেকে মামলার কপি পাওয়ার পর বুধবার রাতে মাধবী ও তাপসীকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

মামলার বাদী নিহতের সন্তান প্রশান্ত কুমার সেন বলেন, ‌‘থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমার অভিযোগ আমলে নেয়নি। থানায় আইনি সহযোগিতা না পাওয়ায় ৬ মাস পর আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাবাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সুকৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের বিমাতা ষড়যন্ত্র করে বাবার কাছ থেকে বসতভিটাসহ প্রায় ৭ বিঘা জমি লিখে নিয়েছেন।’  

ইত্তেফাক/ডিডি