মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বড়লেখায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ

  • লাইন সংস্কারে অবহেলা, উদাসীনতায় ঘটছে হতাহতের ঘটনা
আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ১১:১৭

কোথাও বসত ঘর ও বাড়ির উপর দিয়ে, কোথাও বসত বাড়ির রাস্তা এবং পাশ ঘেঁষেই হাতে ছোঁয়া দুরত্বে ঝুঁকিপূর্ণভাবে টানানো হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে টানানো এসব লাইনে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। 

গত ২৫ মার্চ জুড়ীতে (বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন) টিনের চালে বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু হলেও বিদুৎ বিতরণকারী সংস্থা মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয় মরণফাঁদ এসব বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তরের কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ফলে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানি ও দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা বাড়ছে। 

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় প্রবাসীর বসতঘর ছোঁয়া বিদ্যুতের মেইন লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে লিলন মিয়া (২৩) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের খলাগাঁও গ্রামের প্রবাসী রাশেদ মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত লিলন মিয়া উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার ছেলে। 

বড়লেখা থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পল্লীবিদ্যুতের আজিমগঞ্জ অভিযোগ কেন্দ্রের আওতাধীন এলাকা খলাগাঁও এর বাসিন্দা রাশেদের (প্রবাসী) এক স্বজন গত ৭ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ে খুঁটি সরানোর জন্য আবেদন করেন এবং ১৭২৫ টাকা ফি জামা দেন। কিন্তু খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। মূলত সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই রাশেদ আহমদের বাড়িতে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের মেইন লাইন রেখেই নির্মাণ কাজ চলছিল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যান দরিদ্র শ্রমিক লিলন মিয়া। 

শুধু এই ঘটনাই নয় এরআগে ২০২২ সালের মে মাসে পল্লীবিদ্যুতের দাসেরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ টেকনিশিয়ান জাহাঙ্গীর সিকদারের গাফিলতিতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অফিক আহমদ (২৪) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক মারা যান। 

এদিকে শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে বর্ণি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গণেষার চক এলাকার জফির উদ্দিন ও সেলিম উদ্দিনের বাড়িসহ ৫টি বাড়ি এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুদৎপুর এলাকার জাহেদ আহমদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের লাইন দেখা গেছে। কোথাও বসত ঘর ও বাড়ির উপর দিয়ে, কোথাও বসত বাড়ির রাস্তা এবং পাশ ঘেঁষেই হাতে ছোঁয়া দুরত্বে এলটি ফেইজ লাইন (কভার ছাড়া তার) ও হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনের বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বারবার ধর্না দিয়ে এবং লিখিত আবেদন করেও মেলেনি সুফল। ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনের বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা সমাজসেবক আব্দুল মুহিত বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। আমি নিজে চার-পাঁচ বছর ধরে এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সরানোর জন্য বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যা খুবই দুঃখজনক।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম (ওএন্ডএম) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যেসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ লাইন আছে সেগুলোর তালিকা করে পর্যায়ক্রমে সংস্কার করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে যে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে; সেখানে প্রবাসীর বাড়ি তৈরীর আগে থেকেই বিদ্যুৎ লাইন টানানো ছিল। পল্লীবিদ্যুত সমিতিকে কোনো ধরণের অবহিত না করেই লাইন ঘেষে স্থাপনা নির্মাণ করেন ওই প্রবাসী। প্রায় ঘরের মধ্যেই তিনি বিদ্যুতের লাইন ঢুকিয়ে ফেলেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন