মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাত পোহালেই শুরু এক রাতের ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১৮:১৬

রাত পোহালেই সোমবার (২৭ মে) শুরু হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীতে মহামানব শ্রীশ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে ও তৎসংলগ্ন ১৬৭ একর গোচারণ ভূমিতে এক রাতের জন্য উপমহাদেশের অন্যতম শতাধিক বর্ষের সেই ঐতিহাসিক কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবে। সমাগম ঘটবে প্রায় ১০ লক্ষাধিক লোকের।
 
ভক্তরা জানায়, কথিত আছে যে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে এ পূজা শুরু করে। এবং দেবতারা সমুদ্রমন্থন করে হরিদ্বার, প্রয়াগ, উজ্জয়িনী ও নাসিক এ চারটি স্থানে অমৃতসুধা চারটি কুম্ভপাত্রে রাখে। সেই থেকে প্রায় ১৩১ বছর পূর্বে ভারতের কুম্ভমেলা অনুকরণে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীতে শ্রীশ্রী গণেশ পাগলের আশ্রমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক রাতের মেলা হলেও চলে সকাল থেকে পরদিন ভোর রাত পর্যন্ত। প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুরো একটি এলাকার বাড়ি-ঘর, মাঠ-ঘাট, ক্ষেত-খামার কোন জায়গা খালি থাকে না মানুষের পদচারণায় । সমাগম ঘটে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের। সকাল থেকেই দলে দলে ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচ-গান করতে করতে সাধু সন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে, ও পদব্রজে আসতে থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। 

বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, চিটাগাং, রংপুর, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা  থেকে দলে দলে মানুষ আসে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও বহু ভক্তরা আসে স্বনামধন্য এ সাধকের মেলায়। এ মেলায় আসা হাজার হাজার সাধু সন্ন্যাসী ও তার ভক্তরা গাঁজার দমে একতারা আর দোতারায় সুর দিয়ে সারা রাত মেতে থাকে। দেশ বিদেশ থেকে আসা এসব সাধু সন্ন্যাসী ও ভক্তরা বাহারি কলকি হাতে গাঁজায় দম দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় সঙ্গীত, নৃত্য-বাদ্য বাজনা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রাত কাটায়। 

এ মেলা উপলক্ষে ২ থেকে ৩ দিন পূর্বে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে দোকানিরা। বাঁশ বেতের শিল্প কারুকাজ খচিত গৃহস্থালি মালামাল, মৃত শিল্প বা মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাহারি মিষ্টি, দৃষ্টি আকর্ষণীয় খেলনা ও বাহারি প্রসাধনী পণ্য দিয়ে সাজাবে নূন্যতম ৩ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ষ্টল। তবে বেশি ভিড় জমে মিষ্টির দোকানে।

মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মহানন্দ বিশ্বাস জানান, এদিন শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজৈর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, এ মেলা উপলক্ষে মাদারীপুর ডিবি পুলিশ, র‌্যাব-৮ সদস্য ও রাজৈর থানা পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও