ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালে’র প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ২৫ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়ো বাতাসে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) এক পরিচালক নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুর্ঘটনা এড়াতে ১৪টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বিদ্যুৎ কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় শেষ হওয়ার পরপরই যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়, সেই লক্ষ্যে প্রত্যেকটি সমিতির কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎহীন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা ও ঝালকাঠি জেলা। এরমধ্যে পটুয়াখালীতে ছয় লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া বাগেরহাটে ৪ লাখ ৫০ হাজার ও ভোলায় ৪ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে কলকাতাসহ রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এতে সাগরদ্বীপসহ ক্যানিং, পাথর প্রতিমা, বকখালি, মৌসুন দ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে অনেক গাছ ভেঙে পড়েছে।
এছাড়াও অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম ঘণ্টায় অন্তত ৩৫৬টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমারের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিছু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি, মাটির ঘরবাড়ি, বাঁধ ভেঙে পড়েছে। রবিবার দুপুর থেকে কলকাতা শহরে ৫০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ‘রেমালের আঘাতে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার উড়ে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এ কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। সড়কে পানি জমেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে।’
