মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাগমারায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন চলছেই

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০১:২৮

রাজশাহীর বাগমারায় অব্যাহত পুকুর খননে বিল-খাল আর থাকছে না। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিল-খাল, মাঠে মাঠে সবুজ দিগন্তরেখা ছিল। যত দূর চোখ যায়, দেখা মেলে সবুজের সমারোহ। মাঠ ভরে থাকত সোনালি ফসল। গ্রামবাংলার চিরাচরিত সেই রূপ হারাতে বসেছে। বিগত ছয়-সাত বছর ধরে একের পর এক বিল-খালে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর করা হচ্ছে আর বিলের মধ্যে পুকুর খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে বিল-খাল নেই হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষে বারবার ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধের চেষ্টা করা হলেও একটি চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় একশ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ী স্থানীয়দের কাছে লোভ দেখিয়ে বেশি মূল্যে কিছু কৃষকের জমি লিজ নেয়। লিজকৃত জমিতে পুকুর খনন শুরু করে আশপাশের জমিতে জোরপূর্বক দখল নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে পুকুর করে। পুকুর খনন সিন্ডিকেট বেশি লাভের আশায় বিঘা চুক্তিতে কৃষকের কৃষিজমিতে পুকুর খনন করে ঐ পুকুরই মত্স্য ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। এতে কতিপয় লোক লাভবান হলেও অধিকাংশ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীরা রাতের অন্ধকারে কিংবা ছুটির মধ্যে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে বিলের জমি শেষ করছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার হামিরকুত্সা ইউনিয়নের রায়াপুর, তালঘরিয়া, কোনাবাড়িয়া ও কালুপাড়া গ্রাম ঘিরে জসোর বিলে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে পুকুর খননের সময় স্থানীয়দের প্রতিরোধে পুকুর খননকারীরা পলিয়ে যায়। পুকুর সিন্ডিকেটের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও আবারও জোরপূর্বক পুকুর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কৃষকেরা দাবি করেছেন। পুকুর খনন বন্ধের জন্য স্থানীয়রা বাগমারার সংসদ সদস্যসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার ঝিকরা, হামিরকুৎসা, শ্রীপুর ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে মোট ১০-১২টি স্পটে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের কাজ চলছে। এসব পুুকুর দিনে ও রাতের অন্ধকারে খনন অব্যাহত রেখেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।  এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে ড্রেজারের চালকসহ তিন জনকে ৫০ হাজার করে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন