বাংলাদেশ জাতীয় দল প্রস্তুত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এই দলের বাইরে যারা রয়েছেন, যাদের যাওয়ার সুযোগ হয়নি বৈশ্বিক মঞ্চে, তাদের নিয়ে বিসিবি রেখেছে আলাদা আয়োজন। টাইগার্স নামে একটি দল গঠন করে ক্রিকেটারদের রাখা হয়েছে খেলা ও অনুশীলনের সঙ্গেই। তবে সেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নয়, টেস্টের জন্য আরও কয়েক জনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অতীতে বয়সভিত্তিক দল এইচপি থেকে টাইগার দলের তেমন পার্থক্য থাকত না। তবে এখন থেকে টাইগার্স নিয়ে আলাদাভাবে সব আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন কোচ সোহেল ইসলাম। গতকাল মিরপুরে তিনি টাইগার্স দল নিয়ে বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
টাইগার্স দলের কোচ সোহেল ইসলাম বলেছেন, ‘টাইগার্স দলের যাত্রাটা আরও আগে শুরু হয়েছে। দুই বছর পার করে এটা তৃতীয় মৌসুম চলছে। এখানে কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। আগে এইচপি ও টাইগার্স একই প্রোগ্রাম ছিল। বছরে যখন খেলা থাকত না তখন চার-পাঁচ মাস অনুশীলন হয়েছে টাইগার্স দল নিয়ে। ‘এ’ দলের কোনো ট্যুর থাকলে এখান থেকে খেলোয়াড়রা যাবে। জাতীয় দলেও কিছু খেলোয়াড় যেত।’
তবে এখন থেকে এমনটা হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার। তিনি বলেছেন, ‘এখন ন্যাশনাল পুলে যারা আছে যারা লাল বলে খেলতে পারে, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে খেলতে পারে তাদের নিয়ে টাইগার্স দল গড়া হয়েছে। আগে চার-পাঁচ মাস প্রোগ্রাম হতো। কিন্তু এখন সারা বছরই অনুশীলন চলবে। কখনো ছোট দলে, কখনো বড় দলে আবার কখনো নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে। এখানে ব্যক্তিগত অনুশীলনের জায়গা থাকবে, উন্নতির জায়গা থাকবে। ছেলেরা যেন সবসময় প্রস্তুত থাকে খেলার জন্য।’
টেস্ট নিয়ে সোহেল বলেন, ‘আমরা এখন গুরুত্ব দিয়েছি লাল বলের ওপরে। এই ক্যালেন্ডার বছরে আমাদের ৮টি টেস্ট রয়েছে। লাল বলের কথা মাথায় রেখেই এই অনুশীলন শুরু করা। পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে, কিছু খেলোয়াড়কে ব্যাকআপ হিসেবে আমাদের দিয়েছেন নির্বাচকরা। তাদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশ্বকাপে কোনো ক্রিকেটার চোটে পড়লে আমরা যেন দ্রুত বদল আনতে পারি। তাতে লাল বলের জন্য কিছু ক্রিকেটার ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য কিছু ক্রিকেটারকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সারা বছরই টাইগার্স দলের প্রোগ্রাম এভাবে চলবে।’
মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজদের মতো তারকাদের নিয়ে টাইগার্স দল ইতিমধ্যে অনুশীলন শুরু করেছে। ২১ সদস্যের এই দলে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও নাসুম আহমেদ থাকলেও তারা প্রথম দিনের অনুশীলনে অংশ নেননি। এই বিষয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘জন্ডিস থেকে এখনো সেরে ওঠেননি নাসুম, এজন্য সে অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি। আর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর জন্য ছুটি নিয়েছেন সাইফুদ্দিন। তারা পরবর্তী সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবে।’
