দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে মূল স্লোগানটা ছিলো—ইংল্যান্ডে রানবন্যা হতে চলেছে।
না, ঠিক রানবন্যা বলতে যা বোঝায়, তা হয়নি। ম্যাচে ম্যাচে সাড়ে তিনশ রান হয়নি; চারশ রানের দেখাই মেলেনি। তিনশ পার করা স্কোর তাড়া করে জিতেছে মাত্র একটি দল—বাংলাদেশ। রানবন্যা না হলেও তার উল্টোটাও আবার হয়নি। কোনো দল একশ রানের নিচে অলআউট হয়ে যায়নি। ম্যাচের মোট রান দুইশ রানের নিচে কোথাও থাকেনি।
এ পর্যন্ত পড়ে মনে হতে পারে, তাহলে এবার বিশ্বকাপে কিছুই হয়নি। বিশ্বকাপটা বোধহয় ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেল। না, এবার বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিশ্বকাপ। ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব ব্যাটে-বলে রঙিন করে রেখেছেন তারকারা। এবার বিশ্বকাপে ভেঙে যাচ্ছে এক আসরের সেরা ব্যাটিং ও বোলিংয়ের রেকর্ড। আর সেই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত আছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।
বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড শচীন টেন্ডুলকারের। ২০০৩ সালে ৬৭৩ রান করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০৭ সালে ৬৫৯ রান করেছিলেন ম্যাথু হেইডেন। এর আগে-পরে বিশ্বকাপের এক আসরে কখনো ৬০০ রান আর দেখা যায়নি। এবার এক আসরে এরই মধ্যে তিনজন ব্যাটসম্যান ছয় শতাধিক রান করে ফেলেছেন। পাঁচ শতাধিক রান করেছেন আরো দুজন। এদের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যাটসম্যান যে টেন্ডুলকারের রেকর্ড টপকে যাবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এখন পর্যন্ত ৬৪৭ রান নিয়ে সবার ওপরে আছেন রোহিত শর্মা। এরপর ৬৩৮ রান নিয়ে ডেভিড ওয়ার্নার। সাকিব ৬০৬ রান নিয়ে আছেন তিন নম্বরে। অ্যারন ফিঞ্চ ও জো রুটও আছেন ৫ শতাধিক রানের ঘরে। এর মধ্যে সাকিব কেবল ছিটকে পড়েছেন লড়াই থেকে। বাকি চারজনই কমপক্ষে আরো একটি ম্যাচ, কেউ কেউ দুটি ম্যাচ পাচ্ছেন টেন্ডুলকারকে টপকানোর জন্য।
সেঞ্চুরির দিকে তাকালেও এবারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দাপটটা বোঝা যাবে। এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরি ছিলো কুমার সাঙ্গাকারার। এবার এরই মধ্যে ৫টি সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন রোহিত শর্মা। এ ছাড়া ৩ সেঞ্চুরি করে সাঙ্গাকারাকে ছোঁয়া বা টপকানোর পথে আছেন ওয়ার্নার। তাহলে শুধু ব্যাটসম্যানরাই দাপট দেখাচ্ছেন? না, বোলাররাও আছেন লড়াইয়ে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ২৬টি উইকেট নিয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। এবার প্রথম রাউন্ডেই তাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ম্যাকগ্রার স্বদেশি মিশেল স্টার্ক। আর একটি উইকেট পেলেই রেকর্ডটা স্টার্কের একার হয়ে যাবে। বিশ্বকাপে ২০ উইকেট পাওয়াটাই বড় ব্যাপার মনে করা হয়। সেটা এবার আরো একজন করেছেন প্রথম পর্বে—বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান। তবে আফসোস, মুস্তাফিজ আর এগোনোর জন্য ম্যাচ পাচ্ছেন না।
আফসোসটা সবচেয়ে বেশি থাকার কথা সাকিব আল হাসানের। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে একটা বিশ্বকাপকে এককভাবে উজ্জ্বল করে ফেলার কাজটা করেছেন সাকিব। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান করেছেন; লম্বা একটা সময় ধরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। এর পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
সাকিবের কীর্তি বোঝার জন্য শুধু এটুকু জেনে রাখুন, বিশ্বকাপের কোনো এক আসরে এর আগে কেউ ৪০০ রান ও ১০ উইকেটও নিতে পারেননি!
পয়েন্ট টেবিল
প্রথম পর্ব
দল ম্যাচ জয় পরাজয় পরিত্যক্ত পয়েন্ট রান রেট
ভারত ৯ ৭ ১ ১ ১৫ ০.৮০৯
অস্ট্রেলিয়া ৯ ৭ ২ ০ ১৪ ০.৮৬৮
ইংল্যান্ড ৯ ৬ ৩ ০ ১২ ১.১৫২
নিউজিল্যান্ড ৯ ৫ ৩ ১ ১১ ০.১৭৫
পাকিস্তান ৯ ৫ ৩ ১ ১১ -০.৪৩
শ্রীলঙ্কা ৯ ৩ ৪ ২ ৮ -০.৯১৯
দ. আফ্রিকা ৯ ৩ ৫ ১ ৭ -০.০৩
বাংলাদেশ ৯ ৩ ৫ ১ ৭ -০.৪১
উইন্ডিজ ৯ ২ ৬ ১ ৫ -০.২২৫
আফগানিস্তান ৯ ০ ৯ ০ ০ -১.৩২২
সেরা ৫ ব্যাটসম্যান
খেলোয়াড় ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় ১০০/৫০
রোহিত শর্মা ৮ ৬৪৭ ১৪০ ৯২.৪২ ৫/১
ডেভিড ওয়ার্নার ৯ ৬৩৮ ১৬৬ ৮৯.৪৮ ৩/৩
সাকিব আল হাসান ৮ ৬০৬ ১২৪* ৯৬.০৩ ২/৫
অ্যারন ফিঞ্চ ৯ ৫০৭ ১৫৩ ১০২.২১ ২/৩
জো রুট ৯ ৫০০ ১০৭ ৯১.৭৪ ২/৩
সেরা ৫ বোলার
খেলোয়াড় ম্যাচ উইকেট সেরা গড় ৫ উইকেট
মিশেল স্টার্ক ৯ ২৬ ৫/২৬ ১৬.৬১ ২
মুস্তাফিজুর রহমান ৮ ২০ ৫/৫৯ ২৪.২০ ২
লকি ফার্গুসন ৭ ১৭ ৪/৩৭ ১৮.৫৮ ০
জসপ্রিত বুমরাহ ৮ ১৭ ৪/৫৫ ১৯.৫২ ০
মোহাম্মদ আমির ৮ ১৭ ৫/৩০ ২১.০৫ ১
