নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সাকিব

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২১:১০

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপটা বাংলাদেশের জন্য না হোক, স্মরণীয় হয়ে থাকবে সাকিব আল হাসানের জন্য। টুর্নামেন্টের একদম গোড়া থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ অবধি সমান তালে পারফরম করে গেছেন। আইসিসি র্যাংকিংয়ের এক নম্বর অলরাউন্ডার বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজেকে নাম্বার ওয়ান বলে প্রমাণ করেছেন। সাকিব জানালেন, বিশ্বমঞ্চে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৬০৬ রান করেছেন। গড় ছিল ৮৬.৫৭, স্ট্রাইক রেট ৯৬.০৩। বোলিংয়ে পেয়েছেন ১১ উইকেট। গড় ৩৬.২৭। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন পারফরম্যান্স খুবই বিরল একটা ব্যাপার। যদিও, বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বলার মতো ছিল না। নয় ম্যাচের মধ্যে জিততে পেরেছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। পয়েন্ট তালিকায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের অবস্থান অষ্টম।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেলেও এখনো সাকিবের পারফরম্যান্স আলোচনার ঝড় তুলছে বিশ্ব মঞ্চে। সাকিব আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ থেকেই আমার মনে হচ্ছিল এবার ভালো কিছু হবে। আমি সবগুলো বিশ্বকাপেরই প্রথম ম্যাচগুলোতে ভালো করেছিলাম। তবে সেই ভালোটা খুব কমই ধরে রাখতে পেরেছি।’

সাকিব জানালেন, বিশ্বকাপে বড় কিছু করার জন্য অনেক দিন ধরেই ছক কষছিলেন তিনি। তাই নিজের পারফরম্যান্সে কোনো বিষ্ময় নেই তার। বললেন ‘আমি এই মোমেন্টামটার জন্য অনেকদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আমি মোটেই নিজের পারফরম্যান্সে অবাক হয়নি। কারণ এমন কিছুই চাইছিলাম আমি। শুধু এটুকুই যে, আমি নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।’ ৩২ বছর বয়সী সাকিব গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে মাঠেও বিস্তর পরিশ্রম করেছেন। তিনি ব্যাট হাতে মোকাবিলা করেছেন ৬৩১টি ডেলিভারি। আর হাত ঘুরিয়েছেন ৭৪টি ওভারে। বোঝাই যাচ্ছে, বিশ্বকাপের আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে কতটা কাজ করেছেন তিনি।

যদিও, এর মধ্যেও সাকিবের দুঃসময় এসেছে। তিনি নিজেই জানালেন শেষ দুই ম্যাচের আগে একটু মানসিক চাপে ছিলেন। বললেন, ‘আমি শেষ দুই ম্যাচে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। তবে, ফিটনেস ভালো ছিল বলেই সেটা মাঠে প্রকাশ হয়নি। আমি ম্যাচের মাঝের সময়গুলোতেও নিজের ফিটনেস নিয়ে প্রচুর কাজ করেছি। তবে, এটা করতে গিয়ে নিজের শরীরকে আরো বেশি ক্লান্ত করে ফেলেছি। মানসিক চাপটা এজন্যই এসেছে। আমি বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। ফলে, মানসিক চাপটাকে ফিটনেস দিয়ে জয় করতে পেরেছি।’