কনমেবলের জবাব
স্পোর্টস ডেস্ক
কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির দেখা লালকার্ড। প্রতিযোগিতাটির দুর্বল রেফারিংয়ের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক কনমেবলের উপর ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন। তবে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটিও এর জবাব দিয়েছে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছে তারা।
দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অব্যবস্থাপনা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন মেসি। গ্রুপপর্বে মাঠের দুরবস্থা নিয়ে আয়োজকদের একহাত নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এরপর সেমিফাইনালে ব্রাজিল ম্যাচের পর পরিষ্কার পেনালটি আবেদনে রেফারির সাড়া না দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লালকার্ড দেখার পর কনমেবলে দুর্নীতির অভিযোগই তুলে বসেছেন মেসি।
ঘটনার শুরু হয় ম্যাচটির প্রথমার্ধে। লালকার্ডের অনেক আগেই একবার প্রতিপক্ষ অধিনায়ক গ্যারি মেডেলের কড়া ট্যাকল হজম করতে হয়েছিল মেসিকে। তবে সে যাত্রায় মেডেলের বদলে কার্ড দেখেন আর্তুরো ভিদাল।
প্রথমার্ধ বিরতির কিছু আগে পাওলো দিবালার বাড়ানো বল আয়ত্তে নিতে গেলে আবারও মেডেলের বাধার সম্মুখীন হন মেসি। এরপর দুজনের মাঝে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে মেসিকে বুক দিয়ে ধাক্কা দিতে শুরু করেন চিলি অধিনায়ক। পরে দুজনকেই লালকার্ড দেখান রেফারি। চলতি কোপা আমেরিকায় ভিএআর থাকলেও এই ঘটনায় প্রযুক্তির শরণাপন্ন হননি রেফারি মারিও দিয়াজ দে ভিভার।
ম্যাচজয়ের পর পদক নিতেও অস্বীকৃতি জানান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর কারণ হিসেবে মেসি বলেন, ‘কারণ আমরা কোনো দুর্নীতির অংশ হতে চাই না। এটা পুরো কোপার প্রতিই একটা অসম্মান।’
ব্রাজিল ম্যাচের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মেসি। এই ম্যাচের লালকার্ডকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক দেখছেন সেই মন্তব্যের শাস্তি হিসেবেই। তিনি বলেন, ‘দুজনকে একটা লালকার্ড দেখিয়ে দিলেই সবকিছু শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমার মনেহয় শেষবার যা বলেছিলাম তারই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে আমাকে।’
কনমেবল গতকাল দুপুরে এক বিবৃতিতে মেসির এমন বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিটি জানানো হয়, ‘ফুটবলে কখনো আপনি জিতবেন এবং কখনো হারবেন। ম্যাচের ফলাফলকে আনুগত্য এবং সম্মানের সঙ্গে মেনে নেওয়াটা ফেয়ারপ্লের প্রধানতম ভিত্তি। রেফারিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষ কখনোই যথাযথ হতে পারে না। এটা অগ্রহণযোগ্য। কেননা এই প্রতিযোগিতায় ১২টি দল অংশ নিয়েছে এবং সবাই সমান পরিস্থিতিতেই খেলেছে, তাই এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই অভিযোগটি সত্যকে ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেনি এবং কোপা আমেরিকার সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।’
