কেউ মুখ খুলছে না
স্পোর্টস রিপোর্টার
ফুটবল খেলোয়াড় দলবদল আগস্টে শুরু হবে। ১৬ আগস্ট হতে ১৫ সেপ্টেম্বর খেলোয়াড় দলবদল। এমন ঘোষণাও বাফুফের লিগ কমিটি দিয়ে রেখেছে। চলমান প্রিমিয়ার ফুটবল শেষ হবে ৩১ জুলাই। ১৫ দিন পরই দলবদল। এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্লাব তাদের পছন্দের ফুটবলারদের নিতে শুরু করেছে। কথা বলে রাখছে খেলোয়াড়দের সঙ্গে। আগামীতে বড় দল গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে এমন একাধিক ক্লাবের নাম ফুটবল বাজারে শোনা গেলেও কেউ মুখ খুলছে না। অন্য দলে খেলেছেন এমন খেলোয়াড়দের আগাম পারিশ্রমিক দিয়ে দলভুক্ত করার নিশ্চয়তা নিয়ে রাখলেও মুখে কুলুপ দিয়েছে। আরামবাগের কোচ মারুফুল হক একদনি কথা কথায় বলছিলেন খেলোয়াড়রা খেলবে কী। সবই তো নতুন মৌসুম নিয়ে ভাবছে। কে কোন ক্লাব খেলবে তা নিয়ে বিভিন্ন ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পারিশ্রমিক নিয়েও নিচ্ছেন। তাহলে সেই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ভালো খেলাটা আশা করব কীভাবে।
মারুফুল হক অনেক কিছুই জানেন। কিন্তু মুখ খুলতে রাজি না। সস্তা স্রোতে নিজেকে ভাসাতে রাজি না। ফুটবলারদের স্বাভাবিক নৈপুণ্য ধরে রাখতে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের উচিত প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। মারুফুল হক যেটাই ভাবুক দেশের ফুটবলে এখন এটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই অন্য ক্লাব থেকে আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে নিচ্ছে এবং বর্তমান দলে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছে না ইনজুরির ভয়ে।
বসুন্ধরা কিংস এই সময়ের সেরা দল। সবচেয়ে বড় বাজেটের দল। তারাই শিরোপার পথে হাঁটছে। আবাহনীর চেয়ে ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে রয়েছে। ফুটবল বাজারে গুঞ্জন তারা আগামীতে আরো শক্তিশালী দল গড়ার জন্য এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলা কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসকে এবং দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনকে দলে রাখছে। আরামবাগের কুশলী ফুটবলার রবিউলকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে দলে নেয়ার প্রক্রিয়াটাও নাকি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। জাতীয় ফুটবল দলের আরো একাধিক খেলোয়াড়কে দলভুক্ত করার জন্য ফুটবল বাজারে ছোটাছুটি করছে বসুন্ধরা। আবাহনী এই লড়াইয়ে এখনো নামেনি। তাদের দলের রায়হানের নামটা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু চূড়ান্ত করে কেউ কিছুই বলছে না। আবাহনীর ভাবনায় এখন এএফসি কাপ ফুটবলের নকআউপ পর্ব নিয়ে। ব্রাজিলের ওয়েলিংটন ইনজুরির কারণে চলে যাওয়ায় তার স্থান পূরণ করতে নতুন মুখ খুঁজছে আবাহনী। চট্টগ্রাম আবাহনীর দলনেতা শাকিল চৌধুরী জানিয়েছেন দল একটা করতে হবে। আমরা কোচ ম্যানেজারকে জানিয়েছি। তারা সক্রিয়।
মোহামেডান সব সময় একটু ভিন্ন পথে হাঁটে। সবাই যখন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠ ফাঁকা করে ফেলে তখন বেঁচে যাওয়াদের নিয়ে দল গড়ে মোহামেডান। সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা দেখা যায় না।
ফুটবল খেলোয়াড় দলবদলের বাজার সরব হচ্ছে। বিভিন্ন ক্লাব দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছে। নীরবে চলছে খেলোয়াড় বেচাকেনা কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না।
