কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক
রফিকউদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজার-টেকনাফের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোটো-বড়ো অসংখ্য গর্ত। এতে এ সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি দেশের সর্বদক্ষিণে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক হলেও দ্রুত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে।
মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহে ভারী যানবাহন চলাচল করে এ সড়কটি দিয়ে। গত ২০ মাসে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটির পুরো অংশে এখন ছোটো-বড়ো গর্ত। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ অর্থায়নে শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা বর্তমানে ভয়াবহ।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৫০ কিলোমিটার সড়ককে দুটি প্যাকেজে ভাগ করেছে। প্রথম প্যাকেজে ১২২ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে টিসিসিএল অ্যান্ড মেসার্স জামিল ইকবাল লি. নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। দ্বিতীয় প্যাকেজে ১৫৪ কোটি টাকা চুক্তি সাপেক্ষে উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাহের ব্রাদার্স লি., হাসান টেকনো বিল্ডার্স লি. ও সালেহ আহমদ বাবুল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।
উখিয়া বাস-মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, ঠিকাদারি সংস্থার কাজের গতি দেখে মনে হয় আগামী পাঁচ বছরেও এ সড়কটির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে না। সড়কপথে মানুষের আহাজারি, যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন এক নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, সড়কের উভয়দিকে তিন ফুট করে ছয় ফুট এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪৫ ফুট সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্মাণ কাজের গুণগতমান ও টেকসই উন্নয়ন কাজ করার জন্য ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশে দখল-বেদখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে ও সড়কের অংশবিশেষ পুনরায় মাটি দিয়ে ভরাট করতে গিয়ে উন্নয়ন কাজ এগোয়নি। তিনি বলেন, দুটি প্যাকেজে ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হয়েছে। অতিসম্প্রতি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রথম ধাপে ৫০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে সড়কের বাকি অংশ নির্মাণ ও সম্প্রসারণের আওতায় আনা হবে।
উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্বরত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের অবস্থা বর্তমানে ভয়াবহ। তাছাড়া সড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। এমতাবস্থায়, নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সওজের প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, সড়কটি উন্নয়নের জন্য এডিবি ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরও কেন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না তা নিয়ে জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় কথা বলব।
