শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরেও চলছে সহিংসতা 

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ২১:৫৩

ভারতে সাত দফা নির্বাচনের পর আগামীকাল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হবে। তার আগেই ভোট পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ উঠে আসছে কলকাতাসহ, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। 

গত শনিবার, লোকসভা ভোটের শেষ দিনে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, ভাঙড়, কুলতলির মতো একাধিক এলাকা। ভোটপরবর্তী সময়েও সেই একই চিত্র দেখা গেল।

এর মধ্যে যেমন পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে তেমনই রয়েছে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও। রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে এসেছে ব্যারাকপুর, নিউ টাউনসহ একাধিক স্থান থেকে। মারামারি, ভয় দেখানো, বোমাবাজি এমনকি হত্যার অভিযোগও রয়েছে তালিকায়। 

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত মোট ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বিভিন্ন জেলায়। 

এদিকে, সোমবার বারাসাত এবং মথুরাপুর কেন্দ্রের দুটি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছে। ছাপ্পা ভোট এবং কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল সেখানে।

দেশটির মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের অবশ্য দাবি, ভোটে সহিংসতা হয়নি। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এবার প্রথমবার ভোটে সহিংসতা হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর, ছত্তিশগড়,পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরার মতো জায়গায় আগে কী হতো, তা আপনারা দেখেছেন। এবার শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্য দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না।

একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে ভারত। মোট ৬৪.২ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার পুনর্নির্বাচনের সংখ্যা অনেক কম। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ৫৪০টি পুনর্নির্বাচন হয়েছিল, এবার সেখানে মাত্র ৩৯টি পুনর্নির্বাচন হচ্ছে।

এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দু'টি লোকসভা কেন্দ্র- বারাসাত এবং মথুরাপুরের দুটি বুথও। 

পরে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনার বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মানুষ বুলেটের পরিবর্তে ব্যালটে জবাব দিয়েছে।

তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন শান্তি বজায় রাখতে উত্তরপ্রদেশ, মনিপুর, পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। রাজীব কুমারের মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

 তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে যে পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে, তা যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পড়ে দেখতেন তা হলে একথা বলতেন না।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস রাজীব কুমারের মন্তব্যে খুশি। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এ থেকে প্রমাণ হয়ে যায় বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।” 

বারাসাত এবং মথুরাপুরে পুনর্নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সোমবার বারাসাত এবং মথুরাপুর কেন্দ্রের একটি করে বুথে পুনর্নির্বাচন হয়। সকাল সাতটা থেকে বারাসাত লোকসভার অন্তর্গত দেগঙ্গা বিধানসভার কদম্বগাছি সর্দারপদ স্কুলের ৬১ নম্বর বুথে এবং মথুরাপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত কাকদ্বীপ বিধানসভার শ্রীচৈতন্য বিদ্যাপীঠ স্কুলের ২৬ নম্বর বুথে ভোট গ্রহণ হয়।

সোমবারও দুটি কেন্দ্র থেকেই বারকয়েক সহিংসতার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। কদম্বগাছিতে বিজেপির বুথ এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কাকদ্বীপ থেকেও বিচ্ছিন্ন অভিযোগ উঠে আসতে থাকে।

শনিবার এই দুই লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে সে দিন বিক্ষিপ্তভাবে অশান্তির খবর আসে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়ে একাধিক অভিযোগ।

সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন ।

কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে সহিংসতার অভিযোগ

কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের অন্তর্গত ট্যাংরায় বিজেপির বুথ এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ ওঠে বেলেঘাটাতেও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

এরপরই কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ভোট পরবর্তী সহিংসতার জন্য তিনি দায়ী করেন শাসকদলকে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস চলছে। বিভিন্ন জেলায় এমনকি কলকাতা দক্ষিণেও আমাদের কর্মীদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল আসলে বুঝতে পেরেছে তাদের সময় শেষ।”

একইসঙ্গে 'পাল্টা পদক্ষেপেরও' হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “গুন্ডাদের বলছি বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। কেউ বাঁচতে পারবে না। এমনকি পার্টির (বিজেপির) পতাকা ধরেও না। পুরো ইউপি ট্রিটমেন্ট হবে- এনকাউন্টার চলবে।” 

তার এই মন্তব্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দুষ্কৃতিকারী দমনের পদ্ধতির দিকে ইশারা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, রানাঘাটেও এক সিপিএম কর্মীকে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

প্রবীণ বাম নেতা ও দমদম কেন্দ্রের প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী বলেন, “ওরা (তৃণমূল) একটা দুর্বৃত্ত বাহিনী। সিপিএম থাকবে না এটাই চায়।”

অন্যদিকে, শাসক দলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ বলেন, “যেভাবে বাম ও কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হচ্ছে তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। বাংলায় গণতন্ত্রকে খুন করছে তৃণমূল।” 

প্রসঙ্গত বিজেপি বিরোধী 'ইন্ডিয়া জোটের' অংশ তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস। তবে রাজ্যে যে তাদের মধ্যে কোনো জোট সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। 

বারবার রাজ্যে বাম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়া করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বাম এবং কংগ্রেসও পাল্টা নিশানা করতে ছাড়েনি তৃণমূলকে। ভোট পরবর্তী সময়ে এই 'বিভাজন' আর ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আবারও উত্তপ্ত সন্দেশখালি, জারি ১৪৪ ধারা

ভোটপর্ব মেটার পরেও এখনও খবরের শিরোনামে রয়েছে সন্দেশখালি। ভোটের দিন অশান্তি ছড়ানো এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করতে সোমবার বিকেলেও সন্দেশখালিতে অভিযান চালায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিন বারবার বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

ভোটের দিন তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। শেষ দফা ভোটের দিন পুলিশের উপর আক্রমণের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে সন্দেশখালি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বেড়মজুরের ভোলাপাড়ায় সন্দেশখালি থানার এসআই সাগির গাজীকে আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে।

শনিবার তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং এক কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ আগরহাটির মণ্ডলপাড়ায় এলে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।

পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপি কর্মী ও নেতাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

শনিবার ওই তৃণমূল কর্মীকে আক্রমণ করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাধন রঞ্জিত নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে মণ্ডলপাড়ায় যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি দল। দুটি ভাগে গ্রামে ঢোকে পুলিশের টিম।

গ্রামের ভিতরে ঢোকার পর পুলিশের একটি দলকে ঘিরে ধরে স্থানীয় জনতা। অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে আটক করে বাইরে বের করে নিয়ে আসে পুলিশের অপর টিম। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ধরে, রাস্তা আটকায় পুলিশের।

অভিযুক্ত সাধন রঞ্জিতকে গাড়িতে তুলতে গেলে গ্রামবাসীদের একটি বিরাট দল তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ ও জনতার মধ্যে অশান্তি বাঁধে।

সংখ্যায় কম থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ। এরপর বিরাট ফোর্স নিয়ে গ্রামে আবার ঢোকে পুলিশের কর্মকর্তারা। কিন্তু অভিযুক্তকে আর পাওয়া যায়নি।

এরপর সরবেড়িয়ার আগারআটির ভুঁইয়াপাড়ায় চলে পুলিশি অভিযান। অমর ভুঁইয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভোটের দিন গোলযোগ বাঁধানোর অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালালেও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশি অভিযান রুখতে গ্রামে ঢোকার মুখে পথে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ তৈরির চেষ্টা করে গ্রামবাসীদের একাংশ।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ন্যাজাট থানা এলাকার বয়েরমাড়ি, রাজবাড়ি, মঠবাড়িয়া ও সরবেড়িয়া এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আগামীকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

অন্যদিকে, সপ্তম দফা ভোটের দিন অর্থাৎ পহেলা জুন বোয়ারমারি ২ এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে সন্দেশখালিতে পুলিশি অভিযানকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বাহাস অব্যাহত রয়েছে। বিজেপির অভিযোগ 'পুলিশি তৎপরতা' শুধুমাত্র বিজেপিকর্মীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বসিরহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী এবং সন্দেশখালির আন্দোলনের অন্যতম মুখ রেখা পাত্র সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। সে সব যাতে বাইরে প্ৰকাশ না পাই তাই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”

বিজেপির এই দাবি অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে শাসকদল।

সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, “পুলিশ আইন মেনে কাজ করছে। বিজেপির কথা মেনে নয়, তাই ওদের এত রাগ।”

অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বিধানসভার গোপালগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল সমর্থককে মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা কটু কথা বলায় প্রতিবাদ করায় ওই নারীকে মারধর করা হয়।

তৃণমূলের সমর্থক ওই নারীকে বাঁচাতে এলে তার মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহতদের গ্রামীণ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিজেপি যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।

উত্তপ্ত নদিয়ার কালীগঞ্জ
নদিয়ার কালীগঞ্জে হাফিজুর শেখ নামে এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সড়কের ধারে বছর ৩৫-এর হাফিজুর শেখকে লক্ষ্য করে হঠাৎই কয়েক জন দুষ্কৃতিকারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে বলে অভিযোগ।

পালানোর চেষ্টার সময় তিনি মাটিতে পরে গেলে তাকে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ। এরপরই বিজেপির তরফে জানানো হয়, মৃত যুবক তাদের দলীয় কর্মী ছিলেন। সাম্প্রতিককালে তিনি ওই দলে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে মৃত ওই যুবক সিপিএম করলেও বিজেপি তাকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ তুলেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনকে এসব অভিযোগ জানানো হয় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার পক্ষ থেকে।

কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায় বলেন, “হাফিজুর বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কী নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে!” এই ঘটনায় নাসিম শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছ। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক।

তবে পুলিশের দাবি, হাফিজুর শেখ এবং পলাতক অভিযুক্তের পূর্ব অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তারা ডাকাতি, মাদক ও বেআইনি অস্ত্র মামলায় জেল খেটেছেন। তাদের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে এই হত্যা।

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ‘‘অভিযোগ পেতে অনেক দেরি হয়েছে। দুষ্কৃতিদের চিহ্নিত করে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই দুষ্কৃতিকারী দলের পুরনো শত্রুতার জেরেই খুন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগসূত্র নেই।’’

অন্যদিকে, ব্যাপক বোমাবাজির জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ব্যাকারপুর এবং নৈহাটী। তৃণমূল থেকে ভোটের আগে বিজেপিতে ফেরত আসা বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ তার দলের বুথ এজেন্টের বাড়ির কাছে বোমাবাজি হয়। তৃণমূলকে এর জন্য দায়ী করেন তিনি।

অন্যদিকে, নৈহাটির সাত নম্বর ওর্য়াডের তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে বোমাবাজি হয় বলে অভিযোগ।  সূত্র: বিবিসি 

ইত্তেফাক/এসআর