শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কি ছোট দল?

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ১১:২০

বাংলাদেশ টেস্ট খেলা শুরু করেছে দুই যুগ আগে। তারও এক যুগ আগে থেকে পুরোদস্তুর ওয়ানডে খেলুড়ে জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এত দিন পরে এসে সেই দল ছোট কি না—প্রশ্ন করাটা অতিরঞ্জন ছাড়া আর কী হতে পারে? তবু উঠেছে এমন প্রশ্ন। গেল বছর এশিয়া কাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স বাংলাদেশকে ছোট দল বলে তোপের মুখে পড়েছিলেন। 

পরে বিশ্বকাপে প্রোটিয়া তারকার কথা ভুল প্রমাণ করতে পারেননি সাকিব আল হাসানরা। ভক্তদের ক্ষোভের কারণে ডি ভিলিয়ার্স নিজের কথা ফিরিয়েও নিয়েছিলেন, কিন্তু টাইগার বাহিনী বৈশ্বিক আসরে বড় দল প্রমাণের কোনো অনুষঙ্গ যোগ করতে পারেনি। আগামী ৮ জুন নাজমুল হোসেন শান্তদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। তার আগেই চলছে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা।

গতকাল ভোরে নামিবিয়া-ওমান ম্যাচ কিংবা তার আগে পাপুয়া নিউগিনি-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এ দুই ম্যাচ কিছু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজদের যেভাবে লড়াইয়ের মুখে ফেলেছিল পাপুয়া নিউগিনি, সেটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। নিজেদের মাঠ, তারকায় ঠাসা দল, তবু নিউগিনির বিপক্ষে মাত্র ১৩৭ রানের লক্ষ্যে নাকানিচুবানি খেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। তারা ম্যাচটি জিতেছে আর লড়াই দেখিয়েছে আইসিসির ২০ নম্বরে থাকা পাপুয়া নিউগিনি, যেখানে উইন্ডিজ রয়েছে ৪ নম্বরে। বুক চিতিয়ে এই দল লড়াই করতে পারলে তাদের থেকে ১০ ধাপ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ কেন পারে না?

বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপের ময়দানে লড়াই করতে নামেনি। তার পরেও প্রশ্নগুলো ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে ভক্তদের মন কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ ও ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের যে কুপোকাত দশা হয়েছে, তাতে এমন প্রশ্ন ওঠা অবান্তর কিছু নয়। এত বছর আগে থেকে ক্রিকেট ফেরি করা দেশের বিপক্ষে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি করেছেন ক্রিকেটাররা। 

বাংলাদেশ যেখানে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে টক্কর দিয়ে ২২ গজে আলো ছড়াবে, সেখানে শান্তদের বলতে হয়, কিছু আশা যেন ভক্তরা না করেন। পাপুয়া নিউগিনির মতো দল বৈশ্বিক ময়দানে এভাবে লড়াই করতে পারলে এত দিন ধরে খেলে আসা টাইগারদের ঘাটতি কোথায়? কেন মাঠ থেকে মাথা নিচু করে সাজঘরে ফিরতে হয়? এমন প্রশ্নের উত্তর নেই অন্যতম শীর্ষ ধনী বোর্ড বিসিবির কাছে, নেই কোচদের কাছে, নেই ক্রিকেটারদের কাছেও। নামিবিয়া ও ওমানের মতো দল প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের নজির গড়তে পারলে বাংলাদেশ কেন পারে না?

বিপিএল খেলাকালীন সেই সময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব তার চোখের সমস্যা নিয়ে জানিয়েছিলেন, সমস্যা আসলে চোখে না, সমস্যা যে কোথায় সেটিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের পোস্টারবয় এখনো সেই সমস্যায় ভুগছেন। হয়তো এখনো তিনি সমস্যার মূল চিহ্নিত করতে পারেননি। তেমনি বাংলাদেশ দল হয়তো ব্যর্থতার কারণও জানতে পারেনি। 

বাংলাদেশের দর্শক কতটা ক্রীড়ামোদি, তা বিভিন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এলেই দেখা যায়। পুরো বিশ্ব জানে খেলাপাগল এই জাতি সম্পর্কে। কিন্তু সেই ক্রীড়াজগতে নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করার মতো কিছু তারা খুঁজে পায় না। র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা পাপুয়া নিউগিনি, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ২২ গজে লড়াই করছে, তাতে বাংলাদেশ ছোট দল কি না, সেই তর্ক প্রাসঙ্গিকভাবে আসতেই পারে।

ভারতের বিপক্ষে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচে ১২০ বলে ১২২ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। যেখানে সৌম্য সরকার ও শান্ত শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ডাক মেরে সৌম্য যখন সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন গ্যালারি থেকে তাকে দুয়ো দেওয়া হয়েছে। অনেকে ‘শূন্য সরকার’ বলেও চিত্কার করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও আবার ভাইরাল টপিকেও পরিণত হয়েছে। দুয়ো থেকে বাঁচতে পারেননি লিটন দাস-শান্তরাও। কেউ তো শান্তকে খেলা বাদ দিয়ে দেশে ফিরতে বলেছেন। 

এসব বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক ঘটনা। কত দিন এই দুঃখ বহন করতে হবে, তা-ও অজানা। দিন শেষে দুয়ো দেওয়া সেই ভক্তরা আশায় বুক বাঁধেন শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে নিজেদের জাত চেনাবে টাইগার বাহিনী। দেশ ছাড়ার আগে ক্রিকেটাররা বলেছেন, টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল, বড় দল বলে কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশ যে ফর্ম নিয়মিত করে যাচ্ছে, তাতে বড় দলের পরিচয়টা গৌণ থেকে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইউচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন