শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

উপকূলে সুপেয় পানির সংকট, সমাধানে ‌‌‘বৃষ্টির পানি প্রকল্প’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ১৬:৩৮

সর্ব দক্ষিণে সাতক্ষীরা জেলার নিকাস্ত শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। যার চারিপাশে বিশাল নদী বেষ্টিত। চারপাশে লবণ পানি আর পানিতে থইথই করলেও তীব্র সংকট সুপেয় পানির। খাবার পানি সংগ্রহে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয় নারীদের। 

জলবায়ু পরিবর্তনে, ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, পুকুর ভরাট ও সরকারি খালগুলো খণ্ড খণ্ড করে বাঁধ দিয়ে লবণ পানি উঠিয়ে মাছ চাষ করা এবং উপকূলীয় জনপদে টিউবয়লের নিচের পানি লবণাক্ত হওয়ায় এখানকার মানুষের মধ্যে ব্যবহারিক ও সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লবণাক্ত সমস্যা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।

শ্যামনগরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ২০২২-২৩ ও ২৪ অর্থ বছরে পানির টেংকি খাতে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। আর গভীর নলকূপে বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই কোটি টাকা। উপকূলীয় মানুষের সুপেয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৩০০০ লিটারের ৫৪১৬টি পানির টেংকি বিতরণ করা হয়েছে। এবং গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে ২৫৪টি।
 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্যমতে সরকারি মিষ্টি পানির পুকুর আছে ২২টি, পানির ফিল্টার আছে ৬৫৬টি, গভীর নলকূপ ২ হাজার, অগভীর নলকূপ আছে ৫শ আরও মেশিন রয়েছে ৫টি, সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে পানির ৫৪১৬টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। এই এলাকায় ৪০/৬০ শতাংশ মানুষ খাবার পানির সংকটে রয়েছে। সরকারিভাবে এ তথ্য দেওয়া হলেও বাস্তবচিত্র আরও ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। 

দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় ৯৯৬টি পানির টেংকি বিতরণ করা হয়েছে। যাতে তারা সহজে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নে পানির টেংকি দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, পুকুর ভরাট, খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করার কারণে এই এলাকায় পানি সংকট।
  
স্থানীয় নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান ও মাসুদ জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান পানির টেংকি ও নিচে পাকাকরণের কাজ পরির্দশনে গ্রামে গ্রামে ছুটে চলেছে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম আতাউল হক (দোলন) বলেন, পানির সমস্যা সমাধানে পানির ট্যাংক বিতরণসহ কার্যক্রম চলমান আছে। তবে স্থায়ীভাবে পানির সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে হবে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/পিও